শিলিগুড়ি, ২২ জানুয়ারী :
মহাকাল মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। অভিযোগ, বিনা নোটিশেই একাধিক দোকান ও বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। হঠাৎ উচ্ছেদের খবরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা সরস্বতী অধিকারী বলেন, “মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের সময় এক কথা বলা হয়েছিল, এখন আবার অন্য কথা বলা হচ্ছে। মমতা সরকারের কাছে জানতে চাই, এটা কি আদৌ উচিত? আমরা গরিব মানুষ, বছরের পর বছর ধরে এখানে দোকান চালিয়ে সংসার চালাই। ভাঙতে এলে এভাবে ভাঙা যায় না। যদি ভাঙতেই হয়, আমাদের মেরে ফেলেই ভাঙুক।”
অপর এক বাসিন্দা আরতি ঝা অভিযোগ করেন, কোনও রকম নোটিস না দিয়েই ভাঙতে আসা হয়েছে। তাঁর কথায়, “মন্দির তৈরি হোক, এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু গরিব মানুষের সর্বনাশ করে কোনও মন্দির হয় না। আগে যখন এখানে চা বাগান ছিল, তখন মানুষ শান্তিতে ছিল। কোন ধর্মে মানুষ মেরে ভগবান বসবে?”
স্থানীয়দের দাবি, পুনর্বাসনের কোনও নিশ্চয়তা না দিয়েই উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও স্পষ্ট বক্তব্য মেলেনি। তবে বিধায়ক শংকর ঘোষ বললেন, তৃণমূল এতদিন মানুষ ঠকা তো এখন ভগবানকেও ঠকাচ্ছে। এই সরকারের সঙ্গে যারা থাকবে তারাই জ্বলে পুড়ে মরবে। এদিকে সিপিএমের জল চক্রবর্তী বললেন, কোন ধর্মে লেখা নেই ধর্মের নামে মানুষকে হয়রানি করা। দুই সরকার মিলে এই মুহূর্তে ভারতবর্ষে ধর্মের রাজনীতি চালাচ্ছে। তার দাবি অবিলম্বে উচ্ছেদ বন্ধ করতে হবে।

