শিলিগুড়ি, ৮ জুন:
রাজ্য রাজনীতিতে একসময় ‘ঝুঁকেগা নেহি’ সংলাপ আউড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন ফলতার বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান। অবশেষে নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারী সূত্রে খবর, সীমান্ত পেরিয়ে গা ঢাকা দেওয়ার ছক ছিল তাঁর। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ এপ্রিল। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক বুথে ইভিএমে আতর, কালি ও টেপ লাগানোর মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। পুনর্নির্বাচনের দাবিও ওঠে জোরদারভাবে। পরে নির্বাচন কমিশন ২১ মে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করে।
তবে ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে আচমকাই সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন জাহাঙ্গির খান। তিনি দাবি করেছিলেন, “ফলতার উন্নয়নের স্বার্থেই” এই সিদ্ধান্ত। যদিও ভোটের ব্যালটে তাঁর নাম ও প্রতীক থেকেই যায়।
২৪ মে ফল প্রকাশে কার্যত ভরাডুবি হয় তাঁর। ফলতা কেন্দ্রে বিজেপির বিপুল জয়ের মাঝে জাহাঙ্গির খান মাত্র ৭৭৮৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেন। তারপর থেকেই কার্যত অন্তর্ধান ঘটে তাঁর। বাড়ি, দলীয় কার্যালয়— কোথাও দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত ছিলেন জাহাঙ্গির। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ ছিল। আদালতের রক্ষাকবচ থাকায় এতদিন গ্রেপ্তার এড়িয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গত ২৬ মে কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর সমস্ত আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহার করে নেয়। তারপর থেকেই পুলিশের নজর এড়াতে সীমান্তে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।
ভোটের আগে তাঁর বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের তল্লাশি অভিযানও হয়েছিল। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত আইনের জাল এড়াতে পারলেন না বিতর্কিত এই নেতা।
এবার তাঁর গ্রেপ্তারির পর ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

