মাথাভাঙা, ২৮ জুন:
কোচবিহারের মাথাভাঙা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মহকুমা খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের একটি কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দফতরের দ্বিতল থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা এবং পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দ্রুত বিষয়টি মাথাভাঙা দমকল কেন্দ্র এবং মাথাভাঙা থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে দমকলের একটি ইঞ্জিন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার জেরে দফতর চত্বরে ভিড় জমান এলাকার বহু মানুষ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আগুনে দফতরের একটি কক্ষে রাখা দুটি কম্পিউটার, একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র পুড়ে নষ্ট হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। দফতরের গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হওয়ায় প্রশাসনিক কাজকর্মে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিজেপির মাথাভাঙা শহর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক শিবশঙ্কর সাহা-সহ দলের অন্যান্য নেতারা। শিবশঙ্কর সাহা দাবি করেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে কোনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণ রয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ বা নথি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে আগুন লাগানো হয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানান।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, খাদ্য দফতর চত্বরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। দফতর ঘিরে কোনও বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় এবং স্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় রাতের বেলায় সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হলেও সেই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তবে অনেকেরই প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। দমকল বিভাগ ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দমকল ও পুলিশ আধিকারিকরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত নথিপত্র ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের তালিকা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসবে।

