আলিপুরদুয়ার, ১৮ ডিসেম্বর :
আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকের অন্তর্গত গদাধর বনবস্তিতে গত তিন মাস ধরে সরকারি রেশন না পাওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলঘেরা এই দুর্গম গ্রামে বসবাসকারী শতাধিক পরিবার আজ দু’ বেলা অন্ন জোটাতে হিমশিম খাচ্ছে। গ্রামবাসীরা একের পর একবার রেশন দোকানে গিয়েও হতাশ হয়ে ফিরেছেন। কিন্তু রেশন ডিলারের কোনও খোঁজ মেলেনি, এমনকি ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বড়দিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের আগে রেশন না পাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
জানা গেছে, গদাধর বনবস্তিতে প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। বনবস্তির অধিকাংশ পরিবার পশুপালন ও সামান্য চাষবাসের উপর নির্ভরশীল। স্থায়ী আয়ের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি রেশনই তাদের জীবনধারণের প্রধান ভরসা। অভিযোগ, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর এই তিন মাসে একবারও রেশন দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে রেশন দোকান বন্ধ রয়েছে এবং ডিলার গ্রামে আসছেন না। ফোন করলে কখনও ‘নট রিচেবল’, কখনও আবার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এই অবস্থায় ক্ষুব্ধ ও অসহায় গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে কালচিনি ব্লক প্রশাসনিক দপ্তরের ফুড সাপ্লাই অফিসে যান। অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন এবং অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। গ্রামবাসীরা স্পষ্ট করে বলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
গ্রামবাসী সুমি টুডু ও অজিত মারান্ডি জানান, তাঁদের গ্রামে কোনও বিশেষ কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। রেশনই তাঁদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। টানা তিন মাস রেশন না পাওয়ায় বহু পরিবার ঠিকমতো এক বেলা খাবারও পাচ্ছে না। ডিলার দোকান খোলেন না, যোগাযোগও করা যাচ্ছে না এই অবস্থায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া তাঁদের আর কোনও উপায় ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ মুর্মু বলেন, এই ডিলার আগেও ঠিকমতো রেশন দিত না। সেই সময়ও থানায় ও প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। তিন মাস ধরে সম্পূর্ণ রেশন বন্ধ এবং ডিলার একেবারে উধাও। গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে ওই ডিলারকে অপসারণ করে একজন দায়িত্বশীল ও সৎ ডিলার নিয়োগ করতে হবে।
এদিকে এই বিষয়ে কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামাও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, চা বাগান ও বনবস্তি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়ম চলছে। তিন মাস ধরে রেশন না দিয়ে ডিলার গা ঢাকা দিয়েছে এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ হওয়া উচিত। কিন্তু প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।

