মাথাভাঙ্গা ,২৯ মে
মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালের গ্রুপ ডি কোয়ার্টার থেকে বিপুল পরিমাণ জীবনদায়ী ওষুধ পাচারের চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, সরকারি কোয়ার্টার থেকে কার্টুনে কার্টুনে ওষুধ পাচারের চেষ্টা চলছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীপা চক্রবর্তীর দাবি অনুযায়ী, দু’জন যুবক টোটো নিয়ে কোয়ার্টারে এসে বেশ কিছু প্যাকেট ওষুধ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা বাধা দিলে পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে। এরপর ওষুধ ভর্তি কার্টুন ফেলে রেখে ওই দুই যুবক পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, অর্পিতা শীলের অভিযোগ, ঘটনার পর আলিবার হোসেন নামে এক ব্যক্তি বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। স্থানীয়দের আরও দাবি, হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মী আলিবার হোসেন হাসপাতালের সুপার মাসুদ হাসানের মদতে বেআইনিভাবে সরকারি কোয়ার্টারে ওষুধ মজুত করছিলেন। হাসপাতালের ভেতরে স্টক রুম থাকা সত্ত্বেও কেন কোয়ার্টারে ওষুধ রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির মাথাভাঙা শহর মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক শিবশঙ্কর সাহার অভিযোগ, হাসপাতাল সুপার মাসুদ হাসানের মদতেই আলিবার হোসেন বেআইনিভাবে ওষুধ মজুত করছিলেন এবং এই ওষুধ কালোবাজারির উদ্দেশ্যেই রাখা হয়েছিল।
ঘটনার প্রতিবাদে সুপারের অপসারণের দাবিতে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
যদিও হাসপাতাল সুপার মাসুদ হাসান ও আলিবার হোসেনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাথাভাঙা থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে|

