কোচবিহার, ১৫ জুলাই:
রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চলতে থাকা জল্পনার মাঝেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন কোচবিহারের প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তথা বর্তমান এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। মঙ্গলবার কোচবিহারে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “আমি তৃণমূল নই, আমি এনসিপিআই। বর্তমানে আমরা এনডিএ-র শরিক এবং আসন্ন লোকসভার অধিবেশনেও আমরা এনডিএ-র সঙ্গেই কাজ করব।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে জেলা রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিন কোচবিহারের সরকারি অনুষ্ঠানে জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়াকে বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা যায়। সেই ছবি সামনে আসতেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমানে এনসিপিআই জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-এর শরিক দল এবং সেই জোটের অংশ হিসেবেই তাঁরা সংসদে নিজেদের ভূমিকা পালন করবেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পিছনে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান সুরক্ষিত রাখার কৌশল রয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া সরাসরি সেই মন্তব্যের জবাব না দিয়ে নিজের বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়কেই গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “আমি এখন এনসিপিআই-এর সাংসদ। আমাদের দল এনডিএ-র শরিক, তাই তাদের সঙ্গেই আমরা কাজ করব।”
সম্প্রতি কোচবিহার সফরের সময় সিতাইয়ে তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভের ঘটনাও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার জেরে তিনি সিতাইয়ে প্রবেশ করেননি বলেই জানা যায়। এদিন সেই প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি তো কোচবিহারেই রয়েছি।” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ভবিষ্যতে এনসিপিআই-এর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বিজেপির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। তিনি বলেন, “আমরা কুড়িজন সাংসদ বসে সিদ্ধান্ত নেব।” তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, ভবিষ্যতে এনসিপিআই-এর রাজনৈতিক অবস্থান বা বিজেপির সঙ্গে সম্ভাব্য আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে তিনি কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা করেননি।
জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার এই বক্তব্যকে ঘিরে কোচবিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে লোকসভার আসন্ন অধিবেশনকে সামনে রেখে তাঁর এনডিএ-সমর্থনের প্রকাশ্য ঘোষণা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে মন্তব্য আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

