জলপাইগুড়ি, ২৬ জুলাই:
জলপাইগুড়ি: রাত পোহালেই উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সফরে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শৈব তীর্থ জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিতে আসবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পেশ মন্দির চত্বর, মেলার মাঠ এবং আশপাশের এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে পৌঁছেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নয়ন— সব ক্ষেত্রেই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে জল্পেশে পৌঁছবেন। তাঁর অবতরণের জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী হেলিপ্যাড। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্যে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন শ্রমিকরা।
হেলিপ্যাড নির্মাণের দায়িত্বে থাকা নিতাই দত্ত জানান, গতকালই তাঁরা এই প্রকল্পের ওয়ার্ক অর্ডার হাতে পেয়েছেন। এরপর সময় নষ্ট না করে প্রায় ৭০ জন শ্রমিককে নিয়ে রাত থেকেই কাজ শুরু করা হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে সমস্ত নির্মাণকাজ শেষ করে প্রশাসনের হাতে হেলিপ্যাড তুলে দেওয়াই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জল্পেশ মন্দির চত্বর এবং শ্রাবণী মেলার গোটা এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হচ্ছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী, ট্রাফিক পুলিশ এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মন্দির চত্বর, প্রবেশপথ এবং হেলিপ্যাড এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ জুলাই মুখ্যমন্ত্রীর জল্পেশ মন্দিরে আসার কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। সেই সময় হেলিকপ্টার থেকে শ্রাবণী মেলায় আগত ভক্তদের উপর পুষ্পবৃষ্টি করারও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেদিন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই কর্মসূচি বাতিল করতে হয়। ফলে বহু ভক্তের সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকে যায়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার থেকে জল্পেশ মন্দির চত্বর এবং মেলাপ্রাঙ্গণে পুষ্পবৃষ্টি করা হতে পারে। যদিও শেষ পর্যন্ত আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপরই এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।
উল্লেখ্য, উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রাচীন শৈব তীর্থ হিসেবে পরিচিত জল্পেশ মন্দিরে প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ভিড় জমান। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসম, বিহার, সিকিম, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ভক্তরা এখানে এসে বাবা জল্পেশ্বরের মাথায় জল ঢেলে পুজো দেন। শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে কয়েকদিন ধরে গোটা এলাকা উৎসবের আবহে মেতে ওঠে।
এবার মুখ্যমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে শ্রাবণী মেলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। প্রশাসনের আশা, সমস্ত প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ হবে এবং মুখ্যমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি পুণ্যার্থীরাও নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে মেলায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

