শিলিগুড়ি, ১৩ জুন:
দেশরক্ষার দায়িত্বে থাকা জওয়ান এবং জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা প্রবীণদের একসঙ্গে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে। শনিবার বিকেলে শিলিগুড়ির কাওয়াখালী সংলগ্ন ‘আপনা ঘর’ বৃদ্ধাশ্রমে আয়োজিত হয় এই বিশেষ উদ্যোগ, যেখানে পরিবেশ রক্ষা, সামাজিক সংহতি এবং প্রজন্মের মেলবন্ধনের বার্তা তুলে ধরা হয়।
এই কর্মসূচির আয়োজন করে নর্থ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ার হেডকোয়ার্টার এসএসবি, রাণিডাঙ্গা এবং শিলিগুড়ি ইউনিক ফাউন্ডেশন। সহযোগিতায় ছিল লায়ন্স ক্লাব অফ শিলিগুড়ি। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল প্রকৃতির সুরক্ষা, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজের বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা।
বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিক প্রবীণ নারী-পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গাছের চারা রোপণ করেন এসএসবির জওয়ানরা। আশ্রম চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় মোট প্রায় ১০০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়। প্রতিটি গাছ যেন নতুন জীবনের প্রতীক হয়ে ওঠে, সেই বার্তাই তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল প্রবীণদের আশীর্বাদ ও জওয়ানদের সুরক্ষার প্রতীকী মিলন। উপস্থিতদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়, বরং মানবিকতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক ঐক্যের এক জীবন্ত উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসএসবির ডিআইজি, বিশিষ্ট পরিবেশপ্রেমী সুজিত রাহা, ড. বিদ্যাবতী আগরওয়ালা, উত্তরবঙ্গ তৃতীয় লিঙ্গ বোর্ডের সমাজকর্মী সোনাদেবী বড়মা-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। বক্তারা পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধুমাত্র একটি কর্মসূচি নয়, এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতি।
আয়োজকদের বক্তব্য, প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্ককে আরও গভীর করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও জওয়ানদের দায়িত্ববোধ একসঙ্গে মিলিত হয়ে এই কর্মসূচিকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে।
শেষে উপস্থিত সকলেই পরিবেশ রক্ষার শপথ নেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি করে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতার কাজে যুক্ত হওয়ার অঙ্গীকার করেন। কাওয়াখালীর এই উদ্যোগ একদিকে যেমন পরিবেশের বার্তা দিল, অন্যদিকে তেমনই মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

