আলিপুরদুয়ার, ২ জুলাই:
গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলিপুরদুয়ার ২ নম্বর ব্লকের মাঝের ডাবরি চা বাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার আজীবিকা মিশন গ্রামীণ’ প্রকল্পের কাজ। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রকল্পের সূচনা হয়, যেখানে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য গ্রামীণ পরিবারগুলির আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো এবং তাদের স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি করা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ পরিবারগুলি বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, যার মাধ্যমে তাদের আয় বৃদ্ধির পথ আরও সুগম হবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক ময়ূরী বাসু, সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা, আলিপুরদুয়ার ২ নম্বর ব্লকের বিডিও সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। উদ্বোধনী পর্বে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন জেলাশাসক ময়ূরী বাসু। তিনি জানান, এই মিশনের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা—এই চারটি মূল বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চা বাগান ও গ্রামীণ এলাকার বহু পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে। স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাওয়ায় বাইরে কাজের সন্ধানে যাওয়ার প্রবণতাও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা প্রতীকীভাবে কোদাল চালিয়ে ১২৫ দিনের কাজের সূচনা করেন। এই প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়।
জেলাশাসক ময়ূরী বাসু এদিন সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং প্রকল্পের সুবিধা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, প্রকল্পটি স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এলাকাবাসীর মধ্যেও এই প্রকল্পকে ঘিরে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের যে সংকট ছিল, এই উদ্যোগ তার কিছুটা হলেও সমাধান করতে পারে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধাপে ধাপে জেলার বিভিন্ন ব্লকে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

