কোচবিহার, ২৫ আগস্ট
কোচবিহার জেলা পরিষদে হঠাৎই অনাস্থার হাওয়া! সভাধিপতি সুমিতা বর্মন এবং সহকারী সভাধিপতি আব্দুল জালিল আহমেদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন জেলা পরিষদের ১৭ জন তৃণমূল কংগ্রেস সদস্য। মঙ্গলবার জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি জমা দেন তাঁরা। এই ঘটনায় জেলা পরিষদের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কোচবিহার জেলা পরিষদের মোট ৩১টি আসনের মধ্যে ২৯টি আসন দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি দুটি আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি। এরপর সভাধিপতির দায়িত্ব পান সুমিতা বর্মন এবং সহকারী সভাধিপতি হন আব্দুল জালিল আহমেদ।
তবে এবার শাসকদলেরই একাংশ তাঁদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনায় পরিস্থিতি অন্য মাত্রা পেয়েছে। ১৭ জন তৃণমূল জেলা পরিষদ সদস্যের অভিযোগ, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির জেলা পরিষদে উপস্থিতি কার্যত নেই।
তাঁদের দাবি, দুই শীর্ষ কর্তার অনুপস্থিতির কারণে জেলা পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনাস্থা প্রস্তাব আনা সদস্যরা।
জেলা পরিষদ সদস্য হিমানি ইশোরের অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতি নিয়মিত জেলা পরিষদে আসছেন না। এর জেরে কাজকর্মে ব্যাপক অসুবিধা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁদের। পরিষেবা ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিন ১৭ জন তৃণমূল জেলা পরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর করা অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি জেলাশাসকের দপ্তরে জমা পড়ে। একই দলের এতজন সদস্যের একসঙ্গে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই জেলা পরিষদের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
এখন প্রশ্ন, ১৭ জন সদস্যের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের পর জেলা পরিষদের ক্ষমতার সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে? সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব কী, আর পরবর্তী পদক্ষেপই বা কী হয়—সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

