হরিশ্চন্দ্রপুর (মালদা), ১৯ জুলাই:
তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদ দিবস তথা একুশে জুলাইয়ের সমাবেশকে সামনে রেখে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে জোরকদমে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। রবিবার হরিশ্চন্দ্রপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন হরিশ্চন্দ্রপুরের বিধায়ক মতিবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন দলের ব্লক ও অঞ্চল স্তরের একাধিক নেতা-কর্মী। বৈঠকে কলকাতার ধর্মতলায় একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক মতিবুর রহমান দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সম্প্রতি বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবিরে যোগ দেওয়া হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তাজমুল হোসেনকে কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চললেও মতিবুর রহমান শুরু থেকেই প্রকাশ্যে জানিয়ে এসেছেন যে তিনি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতিই আস্থা রাখছেন এবং তাঁর সঙ্গেই থাকবেন। অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তাজমুল হোসেন সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁকে ওই শিবিরের রাজ্য কমিটির সদস্যও করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে মতিবুর রহমান অভিযোগ করেন, “ওরা টাকা দিয়ে লোক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। তাদের সভার জন্য আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের অনুমতি রয়েছে। না হলে শুধু মালদা জেলা থেকেই তারা এক লক্ষ মানুষ নিয়ে যাওয়ার দাবি করত। বাস্তবে তাদের বৈঠকেই লোক হয়নি। মালদার রাজনীতিতে তাদের কোনও গুরুত্ব থাকবে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, একুশে জুলাইয়ের মূল সমাবেশে হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক কলকাতায় যাবেন। দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে প্রত্যেক অঞ্চল থেকে কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিক্ষুব্ধ তৃণমূল শিবির বা তাজমুল হোসেনের পক্ষ থেকে মতিবুর রহমানের এই মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে মালদা জেলায় তৃণমূলের মূল শিবির এবং বিক্ষুব্ধ শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। আগামী দিনে এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলের।

