মাথাভাঙ্গা, ১৭ জুন:
স্কুলে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি একাংশ শিক্ষকের প্রাইভেট টিউশন পরিচালনার প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবিতে বুধবার অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের (এসআই) কাছে স্মারকলিপি জমা দিল মাথাভাঙ্গা গৃহ শিক্ষক সমিতি। এদিন দুপুরে মাথাভাঙ্গা মহকুমার বিভিন্ন এলাকার গৃহ শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে সংগঠনের ব্যানারে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
গৃহ শিক্ষক সমিতির সদস্যদের দাবি, শিক্ষার অধিকার আইন (আরটিই) অনুযায়ী সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের শিক্ষকদের ব্যক্তিগতভাবে প্রাইভেট টিউশন করানোর উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। অভিযোগ, বহু শিক্ষক স্কুলে পাঠদানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত টিউশনও চালিয়ে যাচ্ছেন, যার ফলে শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং সমতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
সংগঠনের সভানেত্রী নিবেদিতা রায় মজুমদার বলেন, “২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে স্কুলের শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশন করতে পারবেন না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, সেই নিয়মকে উপেক্ষা করে এখনও অনেক শিক্ষক টিউশন করিয়ে চলেছেন। এর ফলে একদিকে আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের উপরও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য শিক্ষকদের সরকার বেতন প্রদান করে। তাই স্কুলের শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শ্রেণিকক্ষে ছাত্রছাত্রীদের যথাযথ শিক্ষা প্রদান করা। যদি শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের বাইরে ব্যক্তিগত টিউশন পরিচালনা করেন, তাহলে শিক্ষাব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
স্মারকলিপিতে গৃহ শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখুক এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। পাশাপাশি শিক্ষার অধিকার আইনের বিধান কঠোরভাবে কার্যকর করারও আবেদন জানানো হয়েছে।
এদিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী গৃহ শিক্ষকরা জানান, তাঁদের এই উদ্যোগ কোনও ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান নিয়ম ও আইন সঠিকভাবে কার্যকর করার দাবিতে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন যে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মাথাভাঙ্গার গৃহ শিক্ষকরা।

