কোচবিহার, সুকটাবাড়ি ৩১ মে
আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা তোলার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রামবাসীরা। কোচবিহারের সুকটাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ১৪২ নম্বর বুথের পঞ্চায়েত সদস্য সুনীল কুমার রায়ের বাড়ির সামনে বিক্ষোভে সামিল হন এলাকার বহু মানুষ। তাঁদের একটাই দাবি—”কাটমানির টাকা ফেরত দিতে হবে।”
অভিযোগ, গোকুলের কুঠি এলাকার বহু গরিব ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে আবাস যোজনায় নাম তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগকারীদের দাবি, গোটা এলাকায় এইভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে গিয়ে উল্টে তাঁদের পকেট থেকে টাকা বেরিয়ে গেছে।
কয়েকজন গ্রামবাসীর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণে তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দিলে নানা ধরনের ধমক, চমক ও চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করার অভিযোগও উঠে এসেছে।
রবিবার ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে ওঠে কাটমানি ফেরতের দাবি। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত টাকা ফেরত না দিলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।
এদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি কর্মী অভিষেক লায়েক বলেন, “গরিব মানুষের প্রাপ্য ঘর নিয়ে যারা ব্যবসা করেছে, তাদের আমরা ছেড়ে কথা বলব না। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। নইলে আগামী দিনে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্য সুনীল কুমার রায়। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হেয় করার জন্য এই অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি কোনও কাটমানি নেননি বলেই দাবি করেন।
অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে সরগরম সুকটাবাড়ি। আবাস যোজনার নামে আদৌ টাকা তোলা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এলাকাবাসী। এখন দেখার, প্রশাসন এই গুরুতর অভিযোগের তদন্তে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

