মাথাভাঙ্গা, ১৪ জুলাই:
মাথাভাঙ্গা–২ ব্লকের পারডুবি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভানুরকুঠি এলাকায় পাকা রাস্তা নির্মাণের জন্য সরকারি প্রকল্পের সাইনবোর্ড বসানো হলেও বাস্তবে রাস্তার কোনও কাজই হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েক বছর আগে প্রকল্পের বোর্ড লাগানো হলেও এখনও পর্যন্ত রাস্তা কাঁচাই রয়ে গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, শুধুমাত্র সাইনবোর্ড বসিয়েই প্রকল্পের কাজ শেষ দেখানো হয়েছে, অথচ বাস্তবে কোনও উন্নয়নই হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পথশ্রী–৩ প্রকল্পের আওতায় ভানুরকুঠি এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ রাস্তা পাকা করার জন্য প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই প্রকল্পের সাইনবোর্ডও এলাকায় বসানো হয়। কিন্তু দুই থেকে তিন বছর কেটে গেলেও রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ।
বর্তমানে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। বর্ষাকালে কাদা ও জল জমে চলাচল আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্কুলপড়ুয়া, প্রবীণ ব্যক্তি, রোগী এবং সাধারণ মানুষের প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা পাকা করার দাবি জানানো হলেও কোনও বাস্তব পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছে প্রকল্পের সাইনবোর্ড। স্থানীয়দের দাবি, বোর্ডে মরচে পড়তে শুরু করেছে, কিন্তু রাস্তার একটি অংশও পাকা করা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, প্রকল্পের বোর্ড লাগিয়ে কাজের সূচনার বার্তা দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও নির্মাণকাজ হয়নি।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে এই প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকারি অর্থ বরাদ্দ হওয়ার পরও রাস্তা নির্মাণ না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেননি, বরাদ্দ অর্থের কী হয়েছে এবং কেন এত বছরেও রাস্তা তৈরি হল না—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নের জন্য রাস্তা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। অথচ বছরের পর বছর ধরে একটি প্রয়োজনীয় রাস্তা নির্মাণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করার পাশাপাশি প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, বরাদ্দ অর্থ এবং কাজ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।
এখন এলাকাবাসীর নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ কবে শুরু হবে এবং অভিযোগের তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই দেখার।

