ধূপগুড়ি, ১ সেপ্টেম্বর
বাইরে থেকে ঝকঝকে দোকান। সামনে সাজানো বাহারি খাবার। ক্রেতাদের ভিড়ও কম নয়। কিন্তু রান্নাঘরের ভিতরের ছবি কি একই রকম? খাবারের গুণগত মান ঠিক থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি কি মানা হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার আচমকা অভিযানে নামল প্রশাসন।
মঙ্গলবার ধূপগুড়ি শহরের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং মিষ্টির দোকানে আচমকা অভিযান চালাল মহকুমা প্রশাসন ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। অভিযানে একাধিক নামী হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাবারের গুণগত মান থেকে শুরু করে রান্নার জায়গার পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং সামগ্রিক পরিবেশ খতিয়ে দেখা হয়।
অভিযানে ছিলেন ধূপগুড়ির মহকুমাশাসক শ্রদ্ধা সুব্বা, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অরিন্দম পাল চৌধুরী-সহ খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। শহরের বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে একাধিক খাবারের দোকান পরিদর্শন করেন তাঁরা।
বিশেষ করে জলপাইগুড়ি রোডের কয়েকটি বিরিয়ানি দোকানে গিয়ে রান্নার জায়গার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে ক্ষুব্ধ হন মহকুমাশাসক। ব্যবসায়ীদের কড়া ধমক দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি বা বিক্রি করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে নিয়ম না মানা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
মহকুমাশাসক শ্রদ্ধা সুব্বা জানান, খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন খাবারের দোকানে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। খাবারের গুণগত মান পরীক্ষা করার পাশাপাশি রান্নার জায়গা এবং অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ টাকা দিয়ে সবসময় ভালো খাবারই প্রত্যাশা করেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় তাঁরা খাবার তৈরির ভিতরের জায়গা দেখতে পান না। সেই কারণেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে রান্নাঘর ও খাবার তৈরির পরিবেশ সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। অভিযানে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সতর্কও করা হয়েছে।
তবে প্রশ্ন একটাই—দোকানের সামনে খাবার যতই আকর্ষণীয় হোক, তার পিছনের রান্নাঘর যদি অস্বাস্থ্যকর হয়, তাহলে সেই খাবার কতটা নিরাপদ?
প্রশাসনের এই আচমকা অভিযান ঘিরে ধূপগুড়ির ব্যবসায়ীদের মধ্যে যেমন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তেমনই সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। আগামী দিনে শহরের খাবারের দোকানগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

