জলপাইগুড়ি, ৫ জানুয়ারী :
তিস্তার চরে এখন ‘সবুজের আশা’! যত দূর চোখ যায় চারপাশ যেন শুধুই সবুজ বাগান। এবছর আলুর ক্ষতি সামাল দিতে মটরশুঁটির চাষেই ভরসা কৃষকদের।জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বারোপাটিয়া নতুনবস্তি পঞ্চায়েত এলাকার রংধামালি ও বোদাগঞ্জ সংলগ্ন তিস্তা নদীর চর এখন কার্যত মটরশুঁটির হাবে পরিণত হয়েছে।
প্রায় ১ হাজার একর বিস্তীর্ণ চর জুড়ে শুরু হয়েছে মটরশুঁটির চাষ। আলু চাষে ক্ষতির মুখে পড়ে বিকল্প ফসল হিসেবে এই সবুজ ফসলেই এখন আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। শীত আসার আগেই আলু চাষ শুরু করেছিলেন বহু কৃষক। কিন্তু পাহাড়ে অসময়ের ভারী বৃষ্টির জেরে তিস্তার জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চর এলাকার আলু খেত ডুবে যায়। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন চাষিরা। সেই ক্ষতি সামলাতে কেউ দেরিতে আলু চাষ শুরু করলেও, অনেকেই আলুর বদলে মটরশুঁটির চাষে ঝুঁকেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত দুই আলু চাষি জানান, এখন সকাল-রাতে কুয়াশা থাকছে, যা আলু চাষের পক্ষে অনুকূল। কিন্তু আগের ক্ষতির ধাক্কা কাটিয়ে আবার আলু চাষ করে লাভ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তাঁরা। অন্যদিকে আরেক কৃষকের কথায়, “একবার ক্ষতির পর আর ঝুঁকি নিইনি। আলুর বদলে মটরশুঁটি চাষ করেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।” চাষিদের মতে, মটরশুঁটি চাষে তুলনামূলকভাবে কম সারের প্রয়োজন হয়। তিস্তার চর এলাকার মাটিতে ফলনও ভাল হয়। এখানকার মটরশুঁটির স্বাদ ও দানার গুণগত মান উন্নত হওয়ায় পাইকারদের মাধ্যমে এই ফসল যাচ্ছে আসাম ও কলকাতার বাজারে। এমনকি এখানকার মটরশুঁটির চাষের উপর নির্ভর করে বাজারের দাম। এতদিন বাজারে বেশ চাহিদা থাকলেও ফলন সেরম না হওয়ায় দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে এবার ছবিটা বদলাতে চলেছে।
জেলা উদ্যান পালন দফতর যুগ্ম অধিকর্তা অলোক কুমার মণ্ডল জানান, জেলায় মোট ২৭০০ হেক্টর জমিতে মটরশুঁটি চাষ হয় এবং উৎপাদন প্রায় ২২ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। এই চাষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তিস্তা নদীর চর এলাকায়। এখন সবুজ মটরশুঁটির ফলনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তিস্তার চরের কৃষকরা এই ফসলই কি পারবে আলু চাষের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিতে, সেটাই সময় বলবে।

