জলপাইগুড়ি, ২৩ জুলাই:
জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই বৃহস্পতিবার ধূপগুড়ি পুরসভায় পৌঁছান ধূপগুড়ি থানার পুলিশ আধিকারিকরা। পুরসভার জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তকরণ সংক্রান্ত বিভাগে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন রেজিস্টার ও সরকারি নথি খতিয়ে দেখেন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার এবং নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। বিশেষ করে গত প্রায় এক দশকের রেকর্ড নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই ঘটনাকে ঘিরে ধূপগুড়ি পুরসভা চত্বরে কিছু সময়ের জন্য চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও ভুয়ো নথির ভিত্তিতে শংসাপত্র ইস্যু, আবার কোথাও নিয়মবহির্ভূতভাবে নথি সংশোধনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। সেই কারণেই একযোগে বিভিন্ন পুরসভা, পৌর সংস্থা এবং গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে নথি পরীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
ধূপগুড়ি পুরসভায় এদিন পুলিশ আধিকারিকরা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্টার, আবেদনপত্র, সংশ্লিষ্ট নথি এবং রেকর্ড যাচাই করেন। পাশাপাশি ওই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর তদন্তের প্রয়োজনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যান পুলিশ আধিকারিকরা।
এ বিষয়ে ধূপগুড়ি পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার অমিত রায় জানান, এটি কোনও একক ঘটনা নয়, বরং রাজ্যজুড়ে একই ধরনের অভিযান চলছে। প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ তদন্তের স্বার্থে পুরসভা থেকে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র সংক্রান্ত রেজিস্টার এবং অন্যান্য নথি সংগ্রহ করেছে। তিনি বলেন, “পুলিশ আধিকারিকরা জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের রেজিস্টার বাজেয়াপ্ত করেছেন। গত প্রায় এক দশকের নথি নিয়ে গিয়েছেন। তদন্তে পুরসভা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে।”
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তদন্তকারীরা প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও অতিরিক্ত নথি বা তথ্য চাইতে পারেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
যদিও এই অভিযানের পর ধূপগুড়ি পুরসভায় কোনও নির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে রাজ্যজুড়ে একযোগে চলা এই অভিযানে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং কোনও ধরনের বেআইনি বা জালিয়াতির ঘটনা থাকলে তা চিহ্নিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।

