কোচবিহার, ২ জুলাই:
অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তার টাকা এখনও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না পৌঁছানোয় কোচবিহার সদর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন একাংশের মহিলা উপভোক্তা। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে কোতোয়ালি থানার পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে আগেই সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও আবেদন জমা দিয়েছেন। প্রশাসনের তরফে তাঁদের একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনও আর্থিক সহায়তার টাকা জমা পড়েনি। অথচ একই প্রকল্পে আবেদন করা অন্যান্য বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই টাকা পৌঁছে গিয়েছে বলে দাবি তাঁদের। ফলে নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন তাঁরা।
শুধু তাই নয়, বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, তাঁদের নাম যাচাইয়ের জন্য একাধিকবার সার্ভে করার কথা জানানো হলেও বাস্তবে এখনও পর্যন্ত সেই সার্ভে সম্পূর্ণ হয়নি। বারবার দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনও নির্দিষ্ট উত্তর না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই তাঁরা সদর মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মহিলাদের দাবি, প্রকল্পের সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে না। যোগ্য উপভোক্তাদের একাংশ এখনও আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বকেয়া টাকা তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর দাবি জানান তাঁরা।
বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি বলেন, এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। তাঁর দাবি, যাঁরা প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তা, তাঁদের প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই ধাপে ধাপে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তার টাকা পৌঁছে যাবে। কোনও যোগ্য ব্যক্তি যাতে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, যাঁদের টাকা এখনও পৌঁছায়নি, তাঁদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার আবেদন জানান তিনি এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই বাকি উপভোক্তারাও এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে আশ্বাস দেন।
তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, আশ্বাসে নয়, তাঁরা দ্রুত তাঁদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পেতে চান। এখন প্রশাসন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলের।

