শিলিগুড়ি, ২৪ জুন:
সিকিম থেকে শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে আনা বিপুল পরিমাণ নন-ডিউটি পেইড (এনডিপি) মদ ও বিয়ার উদ্ধার করল জলপাইগুড়ি এক্সাইজ ডিভিশন। গভীর রাতে সেবক ফরেস্ট সংলগ্ন বেঙ্গল সাফারি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি গাড়ি আটক করা হয়। এই ঘটনায় দার্জিলিং জেলার তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে আবগারি দফতর। উদ্ধার হওয়া মদ ও বিয়ারের বাজারমূল্য ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি বলে জানা গিয়েছে।
আবগারি সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ি এক্সাইজ ডিভিশনের স্পেশাল কমিশনার সুজিত দাসের কাছে গোপন সূত্রে তথ্য আসে যে সিকিম থেকে দুটি গাড়িতে করে বিপুল পরিমাণ মদ পাচার করা হচ্ছে। খবর পাওয়ার পরই ভক্তিনগর রেঞ্জের ডেপুটি এক্সাইজ কালেক্টর কিরাদ সিং বার্দির নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযানকারী দল গঠন করা হয়। ওই দলে ভক্তিনগর রেঞ্জের আধিকারিক, ওসি এবং এক্সাইজ কর্মীরা ছিলেন। এরপর কালিঝোরা ও সেবক ফরেস্ট এলাকায় নজরদারি শুরু হয়।
বুধবার ভোররাত প্রায় ৩টা নাগাদ বেঙ্গল সাফারি সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহভাজন দুটি গাড়িকে আটক করা হয়। আটক গাড়িগুলির মধ্যে একটি টাটা সুমো (WB 58N 7520) এবং একটি মহিন্দ্রা বোলেরো পিকআপ (WB 73E 5292) রয়েছে। গাড়ি দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১,৫২৮.২ লিটার বিদেশি মদ এবং ৪৬৮ লিটার বিয়ার উদ্ধার করা হয়।
ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে দার্জিলিং জেলার বাসিন্দা সুধীর রাই (২৭), আয়ুষ রাই (২০) এবং আয়ুষ্মান লিম্বু (২২)-কে। তবে অভিযানের সময় পাচারচক্রের আরও এক সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানা গিয়েছে। তাকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি শুরু করেছে আবগারি দফতর।
আবগারি দফতরের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মদ ও বিয়ারের বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লক্ষ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা। পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত দুটি গাড়ির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। ফলে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মোট মূল্য ৫৬ লক্ষ টাকারও বেশি।
প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া মদ ও বিয়ার শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাচারচক্রের মূল হোতা এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে আবগারি দফতর।
ধৃত তিন যুবককে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে বলে আবগারি সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ মদ পাচার রোধে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

