শিলিগুড়ি, ২৫ মার্চ :
ভোটের আগে প্রচার বন্ধ করে ধর্নায় বসে রয়েছেন শঙ্কর। কেন এখনো মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার হল না, পুলিশকে প্রশ্ন। অন্যদিকে মেয়রের বুলডোজারের পার্টস খুলে পড়ে গেছে বলে তোপ। ভোটের আগে শিলিগুড়িতে নাবালিকার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক তাপমাত্রার পারদ চরমে।
নাবালিকার প্রেমঘটিত কারণে অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগে উত্তাল শিলিগুড়ি। মূল অভিযুক্তের গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনকে ঘিরে থমকে গেল ভোটের প্রচারের চাকা। একদিকে প্রচার বন্ধ করে ধরনায় বসে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ৷ অন্যদিকে নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে পুলিশকে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানালেন তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব। অভিযুক্তের বাড়িতে বুলডোজার চালানোর নির্দেশ শিলিগুড়ির মেয়রের। পাল্টা তোপ শঙ্করের।
মূলত সোমবার 15 বছর বয়সি কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে শিলিগুড়ি পুরনিগমের 1 নম্বর ওয়ার্ডের কুলিপট্টি এলাকায় । ওই ঘটনায় অভিযুক্ত আমির আলির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা । মৃতের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন । রাস্তা অবরোধ করে দীর্ঘক্ষণ চলে বিক্ষোভ ।
মঙ্গলবার মৃতার বাড়ি থেকে শুরু হয়ে মহকুমাশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত একটি বিশাল মিছিল সংগঠিত হয় । অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতারের জোরালো দাবি ওঠে । আন্দোলন চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রধাননগর থানার পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও মোতায়েন রাখা হয়েছিল ।
এদিকে, নির্বাচনী প্রচারের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নেন বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ । আচমকাই অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্তরকম ভোট প্রচার ও জনসংযোগ কর্মসূচি বন্ধ করার ঘোষণা করে দেন তিনি । শুধু তাই নয়, ন্যায়বিচারের দাবিতে সরাসরি ধরনায় বসে পড়ে প্রতিবাদের পথও বেছে নেন । মঙ্গলবার শিলিগুড়ি জংশনের সামনে আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে দলীয় কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ধরনায় বসেন তিনি । সেখান থেকেই বলেন, “মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে উপযুক্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না ।” আর তাঁর এই অবস্থান ঘিরে শহরের রাজনৈতিকমহলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল থেকেই ঠাঁয় ধর্নায় বসে রয়েছেন শঙ্কর। আজ সকালেই মৃতার পরিবারের লোকেরা দেখা করেন শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে। অন্যদিকে আজই মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব। অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি মৃতার পরিবারের দাবি মতো অভিযুক্তের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কথা জানান গৌতম দেব। কিন্তু তা এখনও কার্যকর হয়নি। তারই পাল্টা তোপ দাগলেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, মেয়রের বুলডোজারের পার্টস খুলে পড়ে গিয়েছে মনে হয়।

