শিলিগুড়ি পুরনিগমের অভিযানে ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঙল অবৈধ নির্মাণ, সরকারি রাস্তা দখলের অভিযোগে হোটেল ব্যবসা বন্ধ
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি ও রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা একটি স্থায়ী টিনের শেড নির্মাণ অবশেষে ভেঙে দিল শিলিগুড়ি পুরনিগম। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১১ নম্বর ওয়ার্ডে পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিল শিলিগুড়ি থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা। নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থার মধ্যেই পুরনিগমের কর্মীরা অবৈধ নির্মাণটি ভেঙে ফেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহুদিন ধরে সরকারি রাস্তার ওপর স্থায়ী টিনের শেড তৈরি করে এবং গত ২-৩ মাস ধরে সেখানে হোটেল ব্যবসা চালানো হচ্ছিল। এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। পাশাপাশি ওই রাস্তার আশেপাশে একাধিক বসতবাড়ি থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে রাস্তা ব্যবহার করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু রাস্তা দখল হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
খোকন ভট্টাচার্য মার্কেট কমিটির পক্ষ থেকে জানান, এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে এর আগেও পুরনিগম ব্যবস্থা নিয়েছিল। একবার নোটিশ দেওয়ার পর নির্মাণটি ভাঙাও হয়েছিল। কিন্তু পরে পুনরায় একই জায়গায় টিনের শেড তৈরি করে ব্যবসা শুরু করা হয়। তিনি বলেন, “এই অবৈধ দখলের কারণে সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছিলেন। এলাকায় জরুরি পরিষেবার গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হচ্ছিল। বহুবার সতর্ক করা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনও কথাই শোনেননি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অবৈধ নির্মাণের সামনে দেশের প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শিলিগুড়ি শহরের বিধায়কের ছবি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পোস্টার লাগানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, ওই পোস্টারগুলিকে সামনে রেখে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। যদিও বারবার পুরনিগমের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও নির্মাণ সরানো হয়নি।
অন্যদিকে, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেই ঈশ্বরচন্দ্র মিত্তাল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি সরাসরি পুরনিগমের কাছ থেকে কোনও নোটিশ পাননি। বরং একটি তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে একটি নোটিশ তাঁর হাতে পৌঁছেছিল। তিনি বলেন, “আমি নোটিশ পাওয়ার পরে কিছু সময় চেয়েছিলাম। কারণ যে জায়গায় নির্মাণ রয়েছে, সেটি আমার নিজের জমির ওপর। এটি কোনও সরকারি রাস্তা নয়। তাই আমি মনে করি না এটি অবৈধ নির্মাণ।”
অবৈধ নির্মাণের সামনে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার ছবি-সংবলিত ব্যানার কেন লাগানো হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরে ঈশ্বরচন্দ্র মিত্তাল জানান, “একজন বন্ধু আমাকে ওই ব্যানার লাগাতে বলেছিলেন। সেই কারণেই আমি ব্যানারটি লাগিয়েছিলাম।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুরনিগমের এই পদক্ষেপকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সরকারি জমি ও রাস্তা দখল করে কোনওভাবেই ব্যবসা বা নির্মাণ চালানো উচিত নয়। ভবিষ্যতে যাতে পুনরায় ওই জায়গায় কোনও অবৈধ নির্মাণ না হয়, সেদিকেও নজর রাখার দাবি উঠেছে।
পুরনিগম সূত্রে খবর, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি ও রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণগুলির বিরুদ্ধে অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আইন মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সরকারি সম্পত্তি দখলের কোনও ঘটনাই বরদাস্ত করা হবে না।

