শিলিগুড়ি, ১ মে :
শিলিগুড়ির হাকিম পাড়ায় বণিক বাড়িতে গত ২৭ বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে মা গন্ধেশ্বরীর পুজো। মৌসুমী বণিকের পরিচালনায় প্রতি বছর বৈশাখী পূর্ণিমার দিন এই পুজো ঘিরে তৈরি হয় উৎসবের আবহ। স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগমে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। গন্ধেশ্বরী পুজো মূলত গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের কূলদেবীর আরাধনা। দেবী গন্ধেশ্বরীকে দেবী দুর্গারই এক রূপ বলে মানা হয়। সিংহবাহিনী, চতুর্ভুজা এই দেবীর হাতে থাকে শঙ্খ, চক্র ও ধনুর্বাণ। তাই তাঁর মূর্তির সঙ্গে মা দুর্গা বা জগদ্ধাত্রীর সাদৃশ্য স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। ব্যবসার উন্নতি ও সুগন্ধি দ্রব্যের সমৃদ্ধির কামনায় ভক্তরা এই পুজো করে থাকেন। এই পুজোর ঐতিহ্য মূলত বাংলাদেশ থেকে শুরু। প্রায় একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে বণিক পরিবারে এই পুজো চলে আসছে। পরবর্তীতে সেখান থেকে এদেশে এসে শিলিগুড়ির হাকিম পাড়ায় একই প্রথা বজায় রেখে শুরু হয় এই পুজো। গত ২৭ বছর ধরে সেই ধারাবাহিকতা অটুট রেখে আজও ধুমধামের সঙ্গে আয়োজিত হচ্ছে এই পূজা। এ বিষয়ে সুমিত বণিক বলেন, “আমাদের এই পুজো বহু প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ। বাংলাদেশ থেকে আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন। আমরা সেই প্রথাকেই ধরে রেখেছি। প্রতি বছর ভক্তদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, অসম সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে আসেন। বিশেষ করে ডাব দিয়ে ভোগ দেওয়া এবং মানত পূরণের জন্য ভক্তদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো।” একদিনের এই পুজো হলেও তার জৌলুস ও ভক্তিভাব অনন্য। দক্ষিণবঙ্গ সহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভক্তদের উপস্থিতিতে বণিক বাড়ির গন্ধেশ্বরী পুজো আজ এক মিলনমেলার রূপ নিয়েছে। ঐতিহ্য ও বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়ে আগামী দিনেও এই পুজো আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে, এমনটাই আশা আয়োজকদের।


