শিলিগুড়ি, ২৬ জুলাই:
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। বহুদিন ধরে নির্মাণাধীন থাকা শিলিগুড়ির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বর্ধমান রোড ফ্লাইওভার উদ্বোধনের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। আগামীকাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে এই ফ্লাইওভারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে রবিবার শেষ মুহূর্তের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা।
এদিন পুলিশ কমিশনার গোটা ফ্লাইওভার এলাকা এবং সংলগ্ন রাস্তাগুলি ঘুরে দেখেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) পূর্ণিমা শেরপা, এসিপি সুবীর দত্ত, এসিপি রবিন থাপা, শিলিগুড়ি থানার আইসি-সহ ট্রাফিক ও জেলা পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। তাঁরা সম্ভাব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রতিটি দিক খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে ভিআইপি নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং, জরুরি পরিষেবার চলাচল এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের সময় যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলেও অযথা সমস্যা না হয়, সেই বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, উদ্বোধনের আগে ফ্লাইওভারে ট্রাফিক পুলিশের ট্রায়াল রান ইতিমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের মাধ্যমে ফ্লাইওভারের কার্যকারিতা, ট্রাফিক প্রবাহ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হওয়ায় উদ্বোধনের জন্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।
শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত এই ফ্লাইওভারটি মহাত্মা গান্ধী চক থেকে বর্ধমান রোড পর্যন্ত বিস্তৃত। দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তায় তীব্র যানজট ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। অফিসযাত্রী, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হতো। নতুন ফ্লাইওভার চালু হলে ওই ব্যস্ত করিডরে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমবে বলে প্রশাসন ও শহরবাসী আশাবাদী। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত আরও দ্রুত এবং সহজ হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়িবাসীর অন্যতম প্রত্যাশিত অবকাঠামো প্রকল্প ছিল। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বোধন নিয়ে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বহু মানুষ মনে করছেন, ফ্লাইওভার চালু হলে শুধু যানজট কমবে না, শহরের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
বর্তমানে সম্ভাব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। এখন শিলিগুড়িবাসীর নজর সোমবারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিকে। ফ্লাইওভার চালু হওয়ার পর শহরের যান চলাচলে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।

