২৬/০৫/২৫
ওয়েব ডেস্ক :
বক্সিরহাট,কোচবিহার : তীব্র পানীয় জলসংকট দেখা দিয়েছে তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের শালবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর চেংটিমারি এলাকা জুড়ে। এই অবস্থায় সোমবার পরিশ্রুত পানীয় জলের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন গ্রামবাসীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আমরা প্রশাসনিক বঞ্চনার শিকার। বিভিন্ন সময় প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে পানীয় জলের দাবি জানানো হলেও কেউ কথা রাখেনি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বক্সিরহাট থানার পুলিশ। শেষ পর্যন্ত তুফানগঞ্জ-২ বিডিও ও জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এদিন বেলা ১১টা থেকে ১ টা পর্যন্ত চলে এই অবরোধ। ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় রাজ্য সড়কে।
আজ থেকে তিন বছর আগে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছে দিতে জলের পাইপ পাতার কাজ শুরু হওয়ায় আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু সেই কাজ অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়ে থাকায় ক্ষোভে ফুঁসছেন শালবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর চেংটিমারি গ্রামের বাসিন্দারা। এলাকায় প্রায় এগারোশো পরিবারের বসবাস। সেখানে পানীয় জলের সমস্যা দীর্ঘদিনের। স্থানীয় বাসিন্দারা বহুবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে বছর তিনেক আগে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের তরফে এলাকায় পাইপ লাইন বসানো হয়। কিন্তু পানীয় জল পরিষেবা চালু হয়নি। ফলে সমস্যা সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে।
পানীয় জলের অভাবে বাধ্য হয়ে গভীর নলকূপের আয়রন যুক্ত জল পান করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
সেই জল পান করে চর্মরোগ ও পেটের অসুখ দেখা দিয়েছে অধিকাংশ মানুষের। সমস্যার সমাধানের দাবিতে বিডিও ও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। তাই সোমবার পানীয় জলের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে উত্তর চেংটিমারি সংলগ্ন রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গ্রামবাসীরা।
বিক্ষোভকারি সুদীপ কর বলেন, শুরু থেকেই পানীয় জল পরিষেবা থেকে বঞ্চিত তাঁরা। বহু আবেদনের পর জলের পাইপ পাতা হলেও মেলেনি ট্যাপ কল। জল চালুর দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিডিও কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে দু – কিলোমিটার দূরে একটি বাড়ি থেকে সকাল- বিকাল জল বয়ে নিয়ে এসে পান করছেন তারা। তাই বাধ্য হয়ে এদিন রাস্তা অবরোধে শামিল হয়েছি।
তুফানগঞ্জ জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার রোহন নন্দী বলেন,
দোরকো এলাকায় নতুন পাম্প হাউস তৈরি করা হয়েছে। সেই পাম্প থেকে এই এলাকায় পানীয় জল সংযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু বিদ্যুৎ সংযোগ না মেলায় সেই পাম্প হাউসটি চালু করার সম্ভব হচ্ছে না। তবে আশা করছি মাসখানিকের মধ্যে পানীয় জল পরিষেবা চালু হবে।

