জলপাইগুড়ি, ২০ জুলাই:
নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে সোমবার জলপাইগুড়ি শহরে প্রতিবাদে সামিল হল একদল ছাত্র-ছাত্রী ও যুব পড়ুয়া। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
সোমবার দুপুরে জলপাইগুড়ি শহরের কদমতলা মোড়ে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতি, দুর্নীতি এবং পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে কদমতলা মোড় থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়ে শহরের বড় পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত পরিক্রমা করে। মিছিলে হাতে প্ল্যাকার্ড, পোস্টার এবং বিভিন্ন স্লোগান তুলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল একটি প্রতীকী শোকমিছিল। পড়ুয়ারা “মরে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থা”-র প্রতীকী কফিন কাঁধে নিয়ে মিছিল করেন। তাঁদের বক্তব্য, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, অনিয়ম এবং জবাবদিহির অভাবের ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। সেই কারণেই প্রতীকীভাবে মৃত শিক্ষা ব্যবস্থাকে কাঁধে তুলে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতির পর যদি পরীক্ষা বাতিল হয় বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তার সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সাধারণ পরীক্ষার্থীদের। তাই পরীক্ষা গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন তাঁরা।
আন্দোলনরত পড়ুয়া আভাস রজক বলেন, “বর্তমানে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা বারবার সামনে আসছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই আমরা অরাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে আন্দোলনে নেমেছি। আমরা চাই, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একজন পরীক্ষার্থী বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেলে সেই পরিশ্রম কার্যত বিফলে যায় এবং অনেক ক্ষেত্রেই আবার এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এই কষ্ট শুধুমাত্র একজন ছাত্র বা ছাত্রীই উপলব্ধি করতে পারে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ করে পুনর্গঠন করা এখন সময়ের দাবি।”
বাইট : আভাস রজক, আন্দোলনরত পড়ুয়া
আন্দোলনকারীদের আরও দাবি, শুধু নিট নয়, দেশের সমস্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরীক্ষা পরিচালনায় প্রযুক্তির সুষ্ঠু ব্যবহার, জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর নীতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে সরকারের দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রতিবাদ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হলেও, দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্দোলনরত পড়ুয়ারা।

