আলিপুরদুয়ার, ২২ মে :
স্ত্রীর সামনে ধারালো ভোজালির কোপে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ১৮ বছর পর দোষী সাব্যস্ত হলেন অভিযুক্ত। শুক্রবার আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতের এডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশনস ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট অভিযুক্ত সুপোল মাহালিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করেছে। অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত জানিয়েছে। ২০০৮ সালের ২২ অগস্ট শামুকতলা থানার অন্তর্গত কোহিনূর গ্রাম পঞ্চায়েতের শালধুরা এলাকায় ঘটে যায় ওই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনা। সেদিন শামুকতলা হাট থেকে বাজার করে একই সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন কাঞ্চন মাহালি ও তাঁর স্ত্রী সুদানি মাহালি। অভিযোগ, পথের মাঝেই আচমকা তাঁদের রাস্তা আটকে দাঁড়ান সুপোল মাহালি। প্রথমে বচসা শুরু হয়। এরপর হঠাৎই নিজের কাছে থাকা ভোজালি বের করে কাঞ্চনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিযুক্ত। অভিযোগ, একের পর এক কোপ মারার পাশাপাশি কাঞ্চনের বুকে ভোজালি গেঁথে দেন সুপোল। রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন কাঞ্চন মাহালি। স্ত্রীর সামনেই মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খুনের ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন নিহতের স্ত্রী সুদানি মাহালি। ঘটনার পর তিনি শামুকতলা থানায় নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। অভিযোগ ঘটনার পর থেকেই সাক্ষী তথা নিহতের স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। আতঙ্কে তিনি দিল্লিতে চলে যান এবং দীর্ঘদিন কার্যত নিখোঁজ অবস্থায় ছিলেন। পরে পুলিশ তাঁকে খুঁজে বের করে ফের আলিপুরদুয়ারে নিয়ে আসে। সেই কারণেই মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। সরকার পক্ষের আইনজীবী অমরেন্দ্রনাথ রায় বলেন ‘ওই মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’ জানা গিয়েছে, নিহত কাঞ্চন মাহালির স্ত্রী সুদানি মাহালির প্রতি একতরফা আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল অভিযুক্ত সুপোল মাহালির। সেই কারণেই পরিকল্পিতভাবে কাঞ্চনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আর সেই পরিকল্পনারই পরিণতি ছিল দিনের আলোয় ঘটে যাওয়া ওই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

