আলিপুরদুয়ার,৬ ডিসেম্বর :
জলদাপাড়ায় নজরদারি আরও শক্তিশালী করতে আসছে নতুন ড্রোন ক্যামেরা। বর্তমানে জলদাপাড়া এবং গরুমারায় মোট দশটি ড্রোন ক্যামেরা থাকলেও জলদাপাড়া ন্যাশনাল পার্কে নজরদারির কাজে সক্রিয় রয়েছে পাঁচটি ড্রোন। বিশাল তৃণভূমি, জঙ্গল এবং নদী পরিবেষ্টিত এই অভয়ারণ্যকে আরও নিরাপদ রাখতে শীঘ্রই যুক্ত হতে চলেছে আরও আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি। এর ফলে জঙ্গল রক্ষায় নজরদারি ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বনকর্মীরা।
জলদাপাড়া অভয়ারণ্য বরাবরই গণ্ডার, হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জন্য পরিচিত। বিশাল এলাকার ওপর সমান তৎপরতায় নজরদারি রাখা সবসময়ই চ্যালেঞ্জের। সেই কারণে বনবিভাগ ড্রোন নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে। ড্রোনগুলি প্রতিদিন নির্দিষ্ট রুটে উড়ে জঙ্গলের অবস্থা, প্রাণীদের গতিবিধি, নদীর ধার ও ঘাসজমির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে শিকারির গতিবিধি, বেআইনি প্রবেশ, বনাঞ্চল ক্ষতির মতো ঘটনাও। নতুন ড্রোন যুক্ত হলে গতি ও সক্ষমতা দু’দিকেই বৃদ্ধি পাবে।
বনদপ্তরের তরফে জানা যায়, আগে যেখানে শুধুমাত্র গাড়ি, হাতি বা পায়ে হেঁটে বন টহল দেওয়া হত, সেখানে ড্রোন যুক্ত হওয়ায় নজরদারি আরও নিখুঁত ও দ্রুত হয়েছে। মাটির ওপরে চলা টহলের পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারির ফলে এখন যে কোনও সন্দেহজনক নড়াচড়া তৎক্ষণাৎ ধরা পড়ে। দূরবর্তী ঘাসজমি ও নদীপ্রবাহ যেখানে মানব টহল কঠিন, সেখানে ড্রোন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
নতুন ড্রোন যুক্ত হওয়ার পর অভয়ারণ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও গতি আসবে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এটি বড় ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়ায় শিকার প্রতিরোধ, উদ্ধারকাজ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আরও উন্নত হবে। প্রকৃতি ও প্রাণ রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি যে নতুন দিগন্ত খুলছে, জলদাপাড়া তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
এই বিষয়ে জলদাপাড়ার অতিরিক্ত বন্যপ্রাণ আধিকারিক নবীকান্ত ঝা জানান, “বিজ্ঞানভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থাকে আমরা প্রতিনিয়ত আধুনিক করে তুলছি। ড্রোন নজরদারির ফলে অল্প সময়ে বৃহৎ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের টহলের পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারি আমাদের কার্যক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও কয়েকটি উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ড্রোনগুলি যুক্ত হলে বনাঞ্চলের প্রায় সম্পূর্ণ অংশ নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে শিকার রোধ, জরুরি উদ্ধারকাজ, এবং বন্যপ্রাণীর পর্যবেক্ষণ আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে আমরা আশা করছি।”

