কোচবিহার, ৪ জুলাই:
বিশ্ববরেণ্য সন্ন্যাসী, দার্শনিক ও যুবসমাজের প্রেরণার উৎস স্বামী বিবেকানন্দের ১২৪তম তিরোধান দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হল কোচবিহারে। শনিবার শহরের শহীদবাগ মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে মাল্যদান, ধূপ ও মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
অনুষ্ঠানে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন বিশিষ্ট শিক্ষক ও সমাজকর্মী বিপ্লব তালুকদার। তিনি স্বামীজির জীবনাদর্শ, মানবকল্যাণে তাঁর অবদান এবং যুবসমাজকে সঠিক পথ দেখানোর ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। উপস্থিত সকলেই স্বামীজির আদর্শ অনুসরণ করে সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী তথা ‘বাইক অক্সিজেন ম্যান’ নামে পরিচিত শংকর রায়। তিনি ধূপকাঠি ও মোমবাতি জ্বালিয়ে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শংকর রায় জানান, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে দিবস পালন নয়, নতুন প্রজন্মের কাছে স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারা, দেশপ্রেম, মানবসেবা ও আত্মবিশ্বাসের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই প্রতিবছর শহীদবাগ মুক্তমঞ্চে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেন আস্থা ফাউন্ডেশনের সদস্যরাও। তাঁরাও স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ধূপকাঠি ও মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে স্বামীজির স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান সমাজে স্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষা ও আদর্শ আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। যুবসমাজকে সঠিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা, মানবসেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করা এবং জাতীয় চেতনা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে তাঁর বাণী আজও পথপ্রদর্শক। তাই প্রতি বছর তাঁর জন্মজয়ন্তী ও তিরোধান দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলেই স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে জীবনে ধারণ করার অঙ্গীকার করেন। শ্রদ্ধা, স্মরণ ও মানবসেবার বার্তাকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় কোচবিহারে পালিত হয় স্বামী বিবেকানন্দের ১২৪তম তিরোধান দিবস।

