আলিপুরদুয়ার, ২১ জুন:
প্রবল বৃষ্টিপাতের জেরে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন হলং নদীর উপর নির্মিত অস্থায়ী কাঠের সেতু ভেঙে পড়েছে। শনিবার গভীর রাতে টানা বৃষ্টির ফলে নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সেতুর উপর দিয়ে প্রবল স্রোতে জল প্রবাহিত হতে শুরু করে। সেই চাপ সামলাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় গুরুত্বপূর্ণ এই অস্থায়ী সেতুটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই ডুয়ার্সের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। শনিবার রাতের বৃষ্টিতে হলং নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পায়। নদীর স্রোত এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে অস্থায়ী কাঠের সেতুর উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেতুর একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত সেটি ভেঙে যায়।
উল্লেখ্য, মাদারিহাট থেকে জলদাপাড়া টুরিস্ট লজ এবং হলং পর্যটন কেন্দ্রের সংযোগ রক্ষাকারী মূল সেতুটি গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়েছিল। এরপর পর্যটক ও স্থানীয়দের যাতায়াতের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উদ্যোগে হলং নদীর উপর একটি অস্থায়ী কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। সেই সেতুর মাধ্যমেই দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছিল।
কিন্তু বর্ষার শুরুতেই আবারও প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে টিকতে পারল না সেই অস্থায়ী কাঠামো। সেতু ভেঙে যাওয়ায় মাদারিহাট থেকে জলদাপাড়া টুরিস্ট লজ এবং সংলগ্ন এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটন মরশুমে এই ধরনের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বর্ষাকালে হলং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়া নতুন ঘটনা নয়। প্রতিবছরই নদীর প্রবল স্রোতের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর প্রভাব পড়ে। তাই স্থায়ী ও শক্তপোক্ত সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। অস্থায়ী কাঠের সেতুর উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দ্রুত স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন এলাকার মানুষ।
ঘটনার খবর পেয়ে বনদপ্তর ও প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের পাশাপাশি বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেতু পুনর্নির্মাণ কিংবা নতুন অস্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
প্রবল বর্ষণের মধ্যে হলং নদীর অস্থায়ী সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় জলদাপাড়া অঞ্চলে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটন ব্যবসায়ী— সকলেই এখন দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

