জলপাইগুড়ি, ২৭ জানুয়ারী :
টোটো চালকদের জন্য এবার টোটোশ্রী প্রকল্প চালুর দাবি জানালো ই-রিক্সা চালক ইউনিয়ন। মঙ্গলবার ই- রিক্সা চালক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জলপাইগুড়ি জেলার আরটিওর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে এই দাবি জানানো হয়। টোটো চালকদের ভাতে মারবার টোটো রেজিস্ট্রেশনের সরকারি সার্কুলার বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে এদিন। শোরুম থেকে বাহন পোর্টালের মাধ্যমে কোনো ই- রিক্সা (টোটো)র রেজিস্ট্রেশন না করে টিটিইএন পোর্টালের মাধ্যমেই সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় সমস্ত ই-রিক্সা (টোটো)র রেজিস্ট্রেশন করার দাবিতে সিআইটিইউ অনুমোদিত ই-রিকশা চালক ইউনিয়নের সদস্যরা এদিন আরটিও দপ্তরে যান। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন শ্রমিক নেতা শুভাশিস সরকার, দুলাল রায়, সুবরন সরকার, তোতাই কর, নারায়ণ কুন্ডু, নিমাই দাস প্রমূখ।
রাজ্যে ই-রিক্সা (টোটো) এক জনপ্রিয় পরিবহন। রাজ্যে উপযুক্ত কাজের বেড়ে চলা অভাবের মধ্যে স্বল্প বিনিয়োগের এক বিশাল স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে এই পরিবহন। অথচ এই টোটো চালকদের ওপর পুলিশি ও প্রশাসনিকসহ বেসরকারি হেনস্থা, হয়রানি, তোলা আদায় প্রায় নিত্য ঘটনা।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ই-রিক্সা (টোটো) সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ই-রিক্সার ক্ষেত্রে টোটো নিবন্দীকরণ শোরুমগুলি থেকে করতে হবে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন শোরুমগুলি ই-রিক্সা চালকদের থেকে বিভিন্ন রকম অর্থ দাবী করছে এবং বিভিন্ন জেলার ক্ষেত্রেও এই অর্থের পরিমাণ বিভিন্ন রকম। নথিভূক্তকরণের শেষ তারিখ বলা হয়েছিল ৩০ নভেম্বর। আন্দোলনের চাপে সেই সময়সীমা বৃদ্ধি করে প্রথমে ৩১ ডিসেম্বর, তারপর ৩১ জানুয়ারি করা হয়। পরিবহন দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর থেকেই সারা রাজ্যজুড়ে এই কালা পরিবহন আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় আছেন টোটো চালকরা। বারে বারে শেষ তারিখ পরিবর্তনের পরও রাজ্যজুড়ে এখনো পর্যন্ত মাত্র ৫ শতাংশ টোটোচালকও টোটো রেজিস্ট্রেশন করাননি, মূলত অত্যাধিক রেজিস্ট্রেশন ফি-র কারণে। ফলে টোটো রেজিস্ট্রেশনের এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। টোটো চালকদের স্বার্থে সিআইটিইউ অনুমোদিত ই- রিক্সা চালক ইউনিয়নের জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস সরকার টোটো রেজিস্ট্রেশনের এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল করে টোটোশ্রী প্রকল্প চালু করার দাবি জানান।

