জলপাইগুড়ি, ১৬ ফেব্রুয়ারী :
এবার টোটো পাড়ায় পর্যটকদের ঘুরে দেখাবে টোটো জন জাতির মানুষরাই। টোটো জন জাতির কৃষ্টি, সংস্কৃতি, জীবন যাত্রা পর্যটকরা শুনবে তাঁদের মুখ থেকেই। টোটো পাড়ায় ঘুরতে ঘুরতে সেখানকার স্থানীয় খাবারের স্বাদ ও নিতে পারবে দেশ বিদেশের পর্যটকরা। পায়ে হেঁটে টোটো পাড়া কে আবিষ্কার করার সুযোগ ও তৈরী করা হচ্ছে। তৈরী হচ্ছে নেচার ট্রেইল।
ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে গত ১২ই ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়েছে গাইড ট্রেনিং প্রোগ্রাম, যেখানে টোটো সম্প্রদায়ের যুবক যুবতী দের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে তাঁদের মাদারিহাট এ প্রশিক্ষণের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে টোটো পাড়ায় তাদের হাতে কলমে শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে পর্যটনের খুটি নাটি সবকিছু। প্রায় ১৫ জন টোটো যুবক যুবতী এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করছে।
বিশিষ্ট পর্বতারোহী এবং কমিউনিটি ও অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম এক্সপার্ট ভাস্কর দাস তাঁদের এই প্রশিক্ষনে সহযোগিতা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, টোটো পাড়ায় একটি নেচার ট্রেইল বা ট্রেকিং পথও বাঁছা হয়েছে, যেখানে পর্যটকদের পাশাপাশি অ্যাডভেঞ্চারে উৎসাহী মানুষরা এই পথে হাঁটতে পারবে। সঙ্গে থাকবে টোটো জনজাতির স্থানীয় ট্রেকিং গাইড। টোটোপাড়া কে এবার নিবিড় ভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ আসবে।
স্থানীয় যুবক ভরত টোটো জানিয়েছেন, আমরা খুবই আশাবাদী এবার পর্যটনের মূল স্রোতে আমরা যুক্ত হতে পারবো এবং আমাদের এখানকার বেকার ছেলে মেয়েরা সেখান থেকে কিছুটা আয় করতে পারবে।
ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন এর সভাপতি বিশ্বজিৎ সাহার মতে এবার টোটো পাড়ায় পর্যটন টা সুশৃঙ্খল ভাবে শুরু হতে চলেছে। এতদিন এখানে পর্যটকরা এলেও স্থানীয় মানুষরা সেভাবে উপকৃত হচ্ছিলনা। এবার স্থানীয় যুবক যুবতীরা গাইড এর কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবে। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রশিক্ষণ নিয়মিত ভাবে চলবে এবং খুব শীঘ্রই তাঁদের পর্যকদের সাথে যুক্ত করা হবে।

