মাথাভাঙ্গা, ২০ জুলাই:
মাথাভাঙ্গা শহরের পোস্ট অফিস মোড় সংলগ্ন এলাকায় বিরিয়ানি কিনে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হলেন এক সাইকেল আরোহী। আহতের নাম বাপি সাহা। তিনি মাথাভাঙ্গা শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সোমবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় বহু মানুষ। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাপি সাহা পোস্ট অফিস মোড় সংলগ্ন একটি বিরিয়ানির দোকান থেকে খাবার কিনে সাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, তিনি মূল সড়কে উঠতেই শনিমন্দিরমুখী একটি ছোট চার চাকার গাড়ি দ্রুতগতিতে এসে তাঁর সাইকেলে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি সাইকেল থেকে কয়েক ফুট দূরে ছিটকে পড়ে যান এবং গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনাস্থলেই তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা আহত বাপি সাহাকে উদ্ধার করে প্রথমে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে জানিয়ে তাঁকে অন্য একটি উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে রেফার করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মারার পরও গাড়িটির গতি কমেনি। বরং চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় গাড়িটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরও দুটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা মারে। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপরটিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয় এবং যান চলাচলেও সাময়িকভাবে বিঘ্ন ঘটে।
খবর পেয়ে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত চার চাকার গাড়িটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনগুলিরও খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গাড়িটির গতি, চালকের ভূমিকা এবং দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

