কোচবিহার, ২৬ জুলাই:
সারা দেশের পাশাপাশি কোচবিহারেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হল কারগিল বিজয় দিবস। ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে আত্মবলিদানকারী বীর সেনানীদের স্মরণে কোচবিহারের সাগরদীঘির পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক পেটন ট্যাংকের সামনে জেলা প্রাক্তন সৈনিক সংঘের উদ্যোগে এক আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতি বছরের মতো এবছরও অনুষ্ঠানের সূচনায় উপস্থিত প্রাক্তন সেনাকর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সাধারণ মানুষ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে কারগিলের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালন করে দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী সেনানীদের স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত গম্ভীর ও আবেগঘন। উপস্থিত সকলেই শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁদের স্মৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রাক্তন সেনাকর্মীরা কারগিল যুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন এবং সেই কঠিন সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহস, বীরত্ব ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং শত্রুপক্ষের প্রবল প্রতিরোধ সত্ত্বেও ভারতীয় সেনাবাহিনী অসীম সাহস ও দৃঢ় মনোবলের পরিচয় দিয়ে দেশের সম্মান ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল। সেই বিজয় আজও দেশের ইতিহাসে গৌরবের অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, কারগিলের বীর শহীদদের আত্মত্যাগ শুধু দেশের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করেনি, বরং দেশপ্রেম, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং আত্মোৎসর্গের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁদের এই বীরত্বগাথা আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলবে।
জেলা প্রাক্তন সৈনিক সংঘের সদস্যরা জানান, কারগিল বিজয় দিবস শুধুমাত্র একটি স্মরণ দিবস নয়, বরং দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা বীর সেনানীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। তাই প্রতি বছর এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয়, যাতে নতুন প্রজন্ম দেশের গৌরবময় সামরিক ইতিহাস এবং বীর সেনানীদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলেই দেশমাতৃকার সুরক্ষায় আত্মবলিদানকারী প্রতিটি বীর শহীদের প্রতি পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আদর্শকে অনুসরণ করে দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

