জলপাইগুড়ি, ২৩ জুলাই:
নিকাশি নালা দখল করে বেআইনিভাবে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল জলপাইগুড়ি শহরে। পুরসভার নোটিশ পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত নিজেই নিজের তৈরি কার্যালয় ভেঙে সরিয়ে নিলেন জলপাইগুড়ি পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সন্দীপ ঘোষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের রাজনৈতিক মহল এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ, শহরের দেববন্ধু নগর এলাকায় একটি নিকাশি নালার উপর বেআইনিভাবে স্থায়ী কাঠামো তৈরি করে সেখানে ‘পরিষেবা কেন্দ্র’-এর নামে একটি তৃণমূল কার্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই নির্মাণের ফলে নিকাশি ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছিল। বর্ষাকালে জল জমে যাওয়া এবং জলনিকাশে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথাও একাধিকবার প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছিল।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে আগেও বারবার আপত্তি জানানো হলেও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধি হওয়ায় কাউন্সিলর সন্দীপ ঘোষ কোনও গুরুত্ব দেননি। অভিযোগের নিষ্পত্তিও হয়নি। ফলে ক্ষোভ বাড়তে থাকে এলাকার মানুষের মধ্যে।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁরা লিখিত অভিযোগ নিয়ে মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ খতিয়ে দেখে মহকুমা শাসকের নির্দেশে জলপাইগুড়ি পুরসভা বিষয়টির তদন্ত করে। তদন্তে নিকাশি নালার উপর বেআইনি নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসার পর পুরসভার পক্ষ থেকে ওই কাঠামো অপসারণের জন্য আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হয়।
পুরসভার নোটিশ পাওয়ার পর আর দেরি না করে নিজেই নির্মিত কার্যালয় ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন কাউন্সিলর সন্দীপ ঘোষ। শ্রমিকদের সাহায্যে নিজের উপস্থিতিতেই কার্যালয়ের টিন, বাঁশ এবং অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী খুলে সরিয়ে নেওয়া হয়। এলাকাবাসীর সামনেই পুরো কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়, যা ঘিরে কৌতূহলী মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে যে বেআইনি দখলদারির অভিযোগ ছিল, অবশেষে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে তার অবসান ঘটল। তাঁদের দাবি, শুধু এই একটি নির্মাণ নয়, শহরের বিভিন্ন নিকাশি নালা, সরকারি জমি ও রাস্তার উপর যেসব বেআইনি দখল রয়েছে, সেগুলির বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এতে জলনিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কমবে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। বিরোধীদের দাবি, প্রশাসনের কড়া অবস্থানের জেরেই কাউন্সিলরকে নিজের কার্যালয় নিজেকেই ভেঙে ফেলতে হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি, নিকাশি নালা এবং রাস্তার উপর বেআইনি দখলদারি চিহ্নিত করার কাজ চলছে। নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে।
এই ঘটনায় ফের সামনে এল শহরের নিকাশি নালা দখল এবং বেআইনি নির্মাণের পুরনো সমস্যা। স্থানীয়দের আশা, প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে এমন দখলদারি রুখতে কার্যকর ভূমিকা নেবে এবং শহরের পরিকাঠামো ও জলনিকাশি ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।

