আলিপুরদুয়ার, ১১ জুন:
সরকারি আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি আদায় এবং অভিযোগকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন গারোপাড়া অঞ্চলের ডিমা চা বাগান এলাকার তৃণমূল নেতা বাপ্পা সরকার। তিনি স্থানীয় এক পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী বলেও জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়লেও তিনি অধরা ছিলেন। অবশেষে বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ মে ডিমা চা বাগান এলাকার একাধিক বাসিন্দা কালচিনি থানায় বাপ্পা সরকারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে দাবি করা হয়, সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে উপভোক্তাদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা আদায় করা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের ঘর পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই বাপ্পা সরকার এলাকাছাড়া ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ফলে তাঁকে গ্রেফতার করতে পুলিশের কিছুটা সময় লাগে। তবে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন বাপ্পা সরকার। গ্রেফতারের আগে তিনি দাবি করেন, “আমি কোনও বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত নই। আইনের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, বিজেপির মণ্ডল সভাপতি উত্তম লামা দাবি করেছেন, আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে তাঁদের কাছে একাধিক প্রমাণ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এলাকার অন্তত ৩৫ জন উপভোক্তার ভিডিও রেকর্ডিং সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে তাঁরা কাটমানি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি বাপ্পা সরকার এলাকায় ফিরে এসে অভিযোগকারীদের বাড়িতে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন এবং অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য ভয়ভীতি দেখান। এমনকি এক মহিলার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার পর নতুন করে থানায় অভিযোগ জমা পড়ে। এরপরই পুলিশ সক্রিয় হয়ে তদন্তে গতি আনে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিমা চা বাগান এলাকা-সহ গোটা কালচিনি ব্লকে ব্যাপক রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের লড়াই।
এখন পুলিশি তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে এলাকার বাসিন্দা ও রাজনৈতিক মহলের।

