কোচবিহার/মালদা, ২৫ জুন:
একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা বিশুধর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহার থেকে শুরু করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে মালদা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে মালদা জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলার দিনহাটার বাসিন্দা বিশুধরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়ছিল। অভিযোগগুলির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরেই গোপন খবর পায় পুলিশ যে তিনি মালদার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থান করছেন। এরপর বিশেষ অভিযান চালিয়ে বুধবার গভীর রাতে তাঁকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে অভিযুক্তকে মালদা জেলা আদালতে তোলা হয়। আদালতে পেশ করার আগে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, অভিযোগের প্রকৃতি ও তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আদালতের কাছে পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। তবে আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ, সম্ভাব্য লেনদেনের উৎস এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নথি ও তথ্য সংগ্রহের কাজও চলছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বিশুধরের গ্রেপ্তারিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হওয়ায় ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। যদিও এই গ্রেপ্তারির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগের পর অবশেষে পুলিশি পদক্ষেপে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিষয়টি। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে দোষী বলা যায় না—এই বিষয়টিও মনে করিয়ে দিচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয়, আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং অভিযোগের পেছনে আরও বড় কোনও চক্রের যোগসূত্র সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের।

