কোচবিহার, ২৫ আগস্ট
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতার। তার ওপারেই বাংলাদেশ, আর এপারে এমন এক মন্দির—যাকে ঘিরে বছরের পর বছর ধরে রয়েছে ভক্তদের গভীর বিশ্বাস। কৌশিকী অমাবস্যার রাতে এই মন্দিরে কী এমন হয়, যার টানে হাজার হাজার মানুষ দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন?
সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে পৌঁছতে হয় ছিন্নমস্তা মায়ের মন্দিরে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে সেখানে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৪৮তম বর্ষের ছিন্নমস্তা মায়ের পুজো। আর সেই পুজোকে ঘিরেই এখন সাহেবগঞ্জে প্রস্তুতি তুঙ্গে।
প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যার এই পুজোয় ভক্তদের ঢল নামে। কোচবিহার ছাড়াও আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, নিম্ন অসম এমনকি কলকাতা থেকেও বহু মানুষ ছুটে আসেন মায়ের দর্শনে। তবে এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল এর অবস্থান। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের গেট পেরিয়েই পৌঁছতে হয় মন্দিরে।
কিন্তু সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে মন্দিরে যাওয়ার অনুমতি মেলে কীভাবে?
ভক্তদের বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাঁটাতারের গেট দিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করতে হয়। কৌশিকী অমাবস্যার রাতে বিশেষ ব্যবস্থায় দীর্ঘ সময় খোলা থাকে সীমান্তের গেট। ফলে রাতভর মন্দিরে চলে পুজো, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং ভক্তদের মানত।
রাত পেরিয়ে ভোর হলে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয় প্রসাদ। মায়ের কাছে মানত করে সেই প্রসাদ গ্রহণ করাকে ঘিরেও রয়েছে বহু মানুষের আবেগ ও বিশ্বাস।
কেন এত জাগ্রত এই মা?
স্থানীয়দের বিশ্বাস, ছিন্নমস্তা মা অত্যন্ত জাগ্রত। এই বিশ্বাসের পিছনে রয়েছে কয়েক দশকের পুরনো এক কথিত ঘটনা।
আশির দশকে এলাকায় প্রবল খরা দেখা দিয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। সেই সময় শুরু হয় ছিন্নমস্তা মায়ের পুজো। আর পুজোর পরই নেমেছিল প্রবল বৃষ্টি—এমনই বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে এলাকায়। সেই ঘটনার পর থেকেই ধীরে ধীরে এই পুজোকে ঘিরে মানুষের বিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে।
তারপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। কিন্তু বদলায়নি ভক্তদের আস্থা। প্রতিবছর কৌশিকী অমাবস্যায় হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন সীমান্তের এই মন্দিরে।
রাতভর পুজো, বাড়তি নিরাপত্তা…
সীমান্ত এলাকা হওয়ায় পুজোকে ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে বিএসএফ। মন্দিরে প্রবেশের আগে ভক্তদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়। সমস্ত নিয়ম মেনেই তাঁদের কাঁটাতার পেরিয়ে মন্দিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
এবারও ১০ সেপ্টেম্বরের পুজোকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। মন্দির চত্বর থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী এলাকা—সব জায়গাতেই চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়।
কাঁটাতারের ওপারে থাকা সেই মন্দিরে কৌশিকী অমাবস্যার রাতে ঠিক কতটা ভিড় হবে?
উত্তর মিলবে ১০ সেপ্টেম্বর। তবে তার আগেই জাগ্রত ছিন্নমস্তা মায়ের দর্শনের অপেক্ষায় ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রবল উৎসাহ। সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে মায়ের কাছে পৌঁছনোর সেই বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হতে প্রস্তুত সাহেবগঞ্জও।
#CoochBehar #WestBengal #ChhinnamastaTemple #KaushikiAmavasya #TempleNews #BengalNews #Sahibganj #BorderArea #Devotees #DurgaPuja

