মাথাভাঙ্গা, ২৫ আগস্ট
নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরই তৎপর প্রশাসন। সাধারণ মানুষের স্বার্থে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার মাথাভাঙ্গা বাজারের একাধিক মুদিখানার পাইকারি দোকানে একযোগে অভিযান চালাল মহকুমা প্রশাসন ও পুলিশ।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চাল, চিনি-সহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর কালোবাজারি, অবৈধ মজুত এবং কৃত্রিমভাবে পণ্যের ঘাটতি তৈরি করে দাম বাড়ানোর প্রবণতা রুখতেই এই বিশেষ অভিযান। ব্যবসায়ীরা বৈধ ও নির্ধারিত মূল্যে সামগ্রী বিক্রি করছেন কিনা, দোকানে সঠিক মূল্যতালিকা বা প্রাইস বোর্ড টাঙানো রয়েছে কিনা—তা খতিয়ে দেখা হয়।
এদিনের অভিযানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন মাথাভাঙ্গার মহকুমা শাসক সুশোভন মণ্ডল এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সমরেন হালদার। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশকর্মীরা।
বিভিন্ন দোকানে গিয়ে মজুত থাকা সামগ্রীর পরিমাণ, বিক্রয়মূল্য এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। কোনও ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে সামগ্রী বিক্রি করছেন কিনা বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে কিনা, সেদিকেও নজর রাখা হয়।
প্রশাসনের তরফে ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—অসাধু উপায়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেললে কোনওভাবেই তা বরদাস্ত করা হবে না। কালোবাজারি, মজুতদারি কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর মাথাভাঙ্গায় প্রশাসনের এই তৎপরতায় এবার বাজারদরে কতটা নিয়ন্ত্রণ আসে, সেটাই দেখার। তবে প্রশাসনের এই অভিযান থেকে স্পষ্ট, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম নিয়ে কোনওরকম কারচুপি বরদাস্ত করতে রাজি নয় প্রশাসন।

