ভারত-ভুটান সীমান্তে কালিম্পং-এর ছোট্ট গ্রাম চিসাং
আজ ‘ঘোরা ঘুরি’তে ভারত-ভুটান সীমান্তে কালিম্পং-এর ছোট্ট গ্রাম চিসাং।– লিখেছেন সৌমি চক্রবর্তী।
ঝলমলে রোদে পাহাড়ের সবুজ ক্যানভাস,ভুটান সীমান্তে চিসাং, মালবাজার থেকে যার দূরত্ব মাত্র ৫৫ কিলোমিটার। মেঘলা দিনে মেঘ কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পাহাড়ী পথ, ধাপ চাষের জমি।
এখান থেকে দেখা যায় ভুটান পাহাড়, নাথুলার একাংশ। সারাদিন জুড়ে অজস্র নাম না জানা পাখির ডাক, পাকদন্ডি পথে বেশ কয়েকটা অনামী ঝরণা, বেড়ে ওঠা পাহাড়ী ফুল। গ্রামের বিভিন্ন অংশে হয় এলাচ গাছের চাষ, চোখে পড়ে পাহাড়ী রঙবেরঙের ধুতুরা। কান পাতলেই শোনা যায় খরস্রোতা নদীর গান।
গোটা গ্রামে জুড়ে মাত্র কয়েক ঘর বাসিন্দা, থাকবার জন্য বেশ কয়েকটা হোমস্টে তাই তেমন মানুষের কোলাহল নেই। যারা নিস্তব্ধ পাহাড়ে প্রকৃতির মাঝে একটা গোটা দিন কাটাতে চান, নিশ্চিন্তে মেঘের খেলা দেখে কাটিয়ে দিতে পারেন।
রাতের বেলা কুচি তারার মতো জ্বলে ওঠে পাহাড়ি আলো।
দু’রাতের জন্য চিসাংয়ে থাকলে, একটা দিন গ্রামটাই হেঁটে ঘুরে দেখতে পারেন। দ্বিতীয় দিন ঘুরে নিতে পারেন দাওয়াইপানি, তোদে বাজার, সীমানাখোলা। তোদে বাজারে রয়েছে একশো বছরের পুরোনো গির্জা। ‘খোলা’ শব্দের অর্থ ‘নদী’। খরস্রোতা দাওয়াইখোলা, মনে করা হয় খোলার জলে সালফার আছে যা ওই অঞ্চলের মানুষের চর্ম রোগের দাওয়াই। এক পাশে ভারত, অন্য পাশে ভুটান, মাঝে বইছে সীমানা নদী, সীমানাখোলা।
ফেরার পথে ঘুরে নেওয়া যায় ঝালং, বিন্দু, পারেনও।
কীভাবে যাবেন?
নিউ মাল জংশন স্টেশন থেকে চিসাং পোঁছাতে সময় লাগে পাহাড়ি পথে ঘন্টা দুয়েক। এখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে যেতে হবে চিসাং। গাড়ি ভাড়া সিজন অনুযায়ী আনুমানিক ২৫০০-৩০০০। এনজেপি থেকে দূরত্ব ১০৬ কিলোমিটার, সময় লাগে ৪ ঘন্টা। গাড়ি নিয়ে গেলে চালসা, খুনিয়া মোড় থেকে ঝালং, বিন্দু যাওয়ার রাস্তা ধরে পৌঁছতে হবে চিসাং। পথে পড়বে চাপড়ামারির জঙ্গল, জালঢাকা নদী।
.
রাত্রিবাসের ঠিকানা
বেশ কয়েকটি হোমস্টে রয়েছে তবে পাহাড়ের উপরে একেবারে শেষ প্রপার্টি Serene Acres Farm stay আমার ব্যক্তিগত পছন্দ। শব্দহীন যাপনের সেরা ঠিকানা। জনপ্রতি প্রতিরাতের জন্য এর ভাড়া ১৫০০ টাকা চারটি মিল সহ।
এছাড়াও এখানে রয়েছে The Wild Wood Retreat, জনপ্রতি প্রতিরাতের জন্য এর ভাড়া ২৩০০ টাকা চারটি মিল সহ। এই হোমস্টে টিও বেশ সুন্দর, স্টাফদের ব্যবহারও খুব ভালো ।
থাকবার জন্য আরো বেশ কয়েকটি হোমস্টে রয়েছে।
বছরের যেকোনও সময় চিসাং যেতে পারেন। তবে পরিষ্কার আকাশ, ভূটান পাহাড়ের ভিউ ও দূরে নাথুলা পাহাড়ের বরফ ঢাকা ভিউ পেতে নভেম্বর-এপ্রিল আদর্শ সময়। মেঘ-পাহাড় চিসাং এক নির্জন স্বর্গ।

