নেপালের যোগীরা স্নান করতেন এখানে, বর্ষাভ্রমনে উত্তরবঙ্গের সুন্দরী উপত্যকা - সৌমীর ট্রাভেলগ
লিখেছেন — সৌমী চক্রবর্তী :
উত্তরবঙ্গে জুন, জুলাই ঘোরতর বর্ষা। এই সময়টা পাহাড়ের খাতায় অফ সিজন, কিন্তু যাদের প্রেমে পাহাড়, তাদের কাছে নিরালা যাপনের সুযোগ।
বর্ষা পাহাড়ে কোথায় নির্ভেজাল থাকতে পারেন?জিরিয়ে নিতে পারেন কয়েকদিন….তারই সুলুক সন্ধানে এই ব্লগ।
এনজিপি থেকে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার দূরে সুন্দর নিরিবিলি পাহাড়ি জনপদ। এখানে পৌঁছলে আপনাদের ঘুম পারাবে রিয়াং নদীর গান। যোগী ঘাট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে তিন হাজার ফুট উচ্চতায় দার্জিলিং এর সিটং ও মংপুর মাঝখানে এক উপত্যকা। দুই পাহাড়কে জোড়া লাগিয়েছে নবনির্মিত যোগী ঘাট ব্রীজ, পাশেই রয়েছে ব্রিটিশ আমলের কাঠের ব্রীজ, ব্যবহার নেই তবে দেখতে বেশ। নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে রিয়াং খোলা।
আগের রাতের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে শরগাছের বন। রিয়াং নদী শান্ত, স্বচ্ছ।আমরা যখন পোঁছেছি তখন বৃষ্টি নেই , খোলার ধারে পাথরে স্যান্ড প্যাডেলিং করছে অসংখ্য রঙ বেরঙের প্রজাপতি। মেঘের গা চিরে উঁকি মারছে সূর্য। আলো পড়ছে রিয়াং এর জলে। নিস্তব্ধ।ব্রীজের পাশে যে গুটিকয় দোকান, স্থানীয়দের কাছে জানলাম, রিয়াং এর জল পবিত্র। নেপালের সাধু বা যোগীরা এসে স্নান করতেন সেই সূত্রে নাম যোগীঘাট। আমরাও গা ভিজিয়েছি। পাহাড়, পাথর পেরিয়ে তরুনী রিয়াং নদীর স্বর স্বতন্ত্র,রূপ অন্য, বিশেষত সূর্যাস্তের সময়। উচ্চতা কম বলে যে কোনো ঋতুতে যোগীঘাট অনন্য। বর্ষায় পাহাড়ের জাতীয় সমস্যা জোঁক, সে উপদ্রব এখানে কম।
যোগীঘাট ব্রিজ কে কেন্দ্র করে কয়েকঘর বসতি রয়েছে এখানে। রংবেরঙের বাড়ি, নদীর ধার ঘেঁষে রয়েছে কয়েকটি হোমস্টেও। সেখানে এক রাত থাকা যেতে পারে। রাতের পাহাড়, জোনাকির গান রিয়াঙের রিমঝিম রাতের সঙ্গী হবে। যোগী ঘাট থেকে ধাপ চাষের জমি পেরিয়ে উপরে উঠলে পৌঁছানো যাবে তুরুক খাস মহল, সেও এক নৈসর্গিক জায়গা।
সাইটসিন: যোগী ঘাটের একপাশে রয়েছে কমলালেবু উৎপাদক আপার সিটং, দেখে আসা যেতে পারে অহলদারা ভিউ পয়েন্ট, পথেই পড়বে পাখির স্বর্গরাজ্য লাটপাঞ্চার। সিটং কিংবা অহলদারাতেও রাত্রিবাস করতে পারেন।যোগী ঘাটের আরেক দিকে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের সিঙ্কোনা চাষ, রবীন্দ্র তীর্থ মংপু,এখানেও রাত্রে থাকা যেতে পারে।ছুটি কম থাকায় আমরা খানিক ছুটেছি, অহলদারায় রাত্রি বাসের পর যোগীঘাট হয়ে পৌঁছেছিলাম মংপুতে, ওই দিনই মংপু থেকে সমতলে। তবে রিয়াং এর পাড়ে রেখে এসেছি রাত্রিবাসের ইচ্ছা।
কী ভাবে যাবেন? নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া করে দু’টি রাস্তায় যোগীঘাট যাওয়া যায়।রোহিনী রোড, কার্শিয়াং, দিলারাম হয়ে, এবং সেবক রোড, রম্ভি, মংপু, লাবদা হয়ে। দুই রাস্তাতেই দূরত্ব শিলিগুড়ি থেকে ৬৫-৭০ কিমি। গাড়ি ভাড়া না করে শেয়ার গাড়িতেও যাওয়া সম্ভব তবে সিট বুক করে রাখতে হবে। সময় লাগে আড়াই ঘন্টা। গাড়ি ভাড়া ৩৫০০ টাকা।
থাকবেন কোথায় ? বেশ কিছু বছর আগে একমাত্র হোমস্টে ছিল মুখিয়া হোম স্টে। তবে এখন আরো বেশ কিছু ঠিকানা হয়েছে তার মধ্যে বিশেষ পছন্দের যোগীঘাট রিভার সাইড হোমস্টে, রাস্তার উপরেই সুন্দর সাজানো,পার্কিং এর সুবিধা সহ। থাকা খাওয়ার খরচ ১২০০-১৭০০ টাকা, সিজন অনুযায়ী।হোমস্টের বুকিং নাম্বার 6291518407

