আলিপুরদুয়ার, ২ সেপ্টেম্বর
নাকা চেকিংয়ে একটি ট্রাক থামাতেই পুলিশের চোখ কপালে! ভিতরে গাদাগাদি করে বোঝাই করা রয়েছে একের পর এক মহিষ। তল্লাশি চালিয়ে ট্রাক থেকে উদ্ধার হল ৪৩টি মহিষ। ফের পাচারের আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ল মহিষ বোঝাই গাড়ি। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের পশ্চিম চকচকা নাকা চেকিং পয়েন্টে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার পশ্চিম চকচকা নাকা পয়েন্টে নজরদারি চালাচ্ছিল আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ। সেই সময় অসমের দিকে যাওয়া একটি ট্রাককে সন্দেহ হয় পুলিশের। এরপর ট্রাকটি আটক করে শুরু হয় তল্লাশি।
আর তল্লাশি করতেই সামনে আসে আসল ছবি। ট্রাকের ভিতরে অত্যন্ত অল্প জায়গায় গাদাগাদি করে প্রায় ৪৩টি মহিষ বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পশুগুলিকে অমানবিকভাবে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
কোথায় যাচ্ছিল এই মহিষগুলি? আর এতগুলি পশুকে এমন অমানবিকভাবে কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বিহার থেকে অসমের দিকে মহিষগুলি পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পুলিশের দাবি, ট্রাকের চালক ও খালাসি মহিষ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পাশাপাশি পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে যে সমস্ত নিয়ম ও বিধি মানার কথা, সেগুলিও যথাযথভাবে মানা হয়নি বলে অভিযোগ।
এরপরই ট্রাকটি আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। চালক ও খালাসিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৪৩টি মহিষকেও নিরাপদে নামিয়ে স্থানীয় একটি খোঁয়াড়ে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তবে পুলিশের তদন্ত এখন শুধু এই ট্রাকেই থেমে নেই। এই পাচার চক্রের নেপথ্যে আরও কারা রয়েছে? কোথা থেকে মহিষগুলি আনা হয়েছিল এবং কোথায় সেগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে পশু নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। আগামীকাল তাঁদের আদালতে তোলা হবে।
একটি ট্রাকে ৪৩টি মহিষ গাদাগাদি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পশু পরিবহনের নিয়মকানুন নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নাকা চেকিংয়ে সময়মতো ট্রাকটি ধরা না পড়লে মহিষগুলি কোথায় পৌঁছত, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল। এখন তদন্তে এই পাচার চক্রের আরও কোনও যোগসূত্র সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর পুলিশের।

