শিলিগুড়ি, ১৪ জুলাই:
আসন্ন ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাকে সামনে রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করল শ্রী কেশব গোস্বামী গৌড়ীয় মঠ, শক্তিগড়। সোমবার আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মঠের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েই এ বছরের রথযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই রথকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই ভক্তমহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
মঠ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের রথযাত্রা উপলক্ষে রথের চারপাশের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও ধরনের আমিষ খাদ্যের দোকান বসতে দেওয়া হবে না। ধর্মীয় উৎসবের পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে রথযাত্রা চলাকালীন নির্দিষ্ট এলাকাজুড়ে সম্পূর্ণ নিরামিষ পরিবেশ বজায় রাখা হবে।
এর পাশাপাশি মেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়েছে মঠ কর্তৃপক্ষ। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, মেলায় কোনও ধরনের সিন্ডিকেট বা দালালচক্রের আধিপত্য বরদাস্ত করা হবে না। যে কোনও ব্যক্তি বা ব্যবসায়ী নির্ধারিত নিয়ম মেনে দোকান বসাতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে কোনও প্রকার অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকবে না।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হিসেবে জানানো হয়েছে, এ বছর মেলায় যাঁরা দোকান বসাবেন, তাঁদের কাছ থেকে কোনও রকম স্টল ফি বা অর্থ নেওয়া হবে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দোকান বসানোর সুযোগ দেওয়া হবে। মঠের দাবি, এর ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা আর্থিক চাপ ছাড়াই রথের মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে মেলার পরিধিও আরও বড় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাংবাদিক বৈঠকে মঠ কর্তৃপক্ষ রাজ্য সরকারের ঘোষণাকেও স্বাগত জানায়। পরিবর্তনের পর থেকে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী রথ কমিটিগুলিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। মঠের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই অনুদান রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার আয়োজনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তবে শ্রী কেশব গোস্বামী গৌড়ীয় মঠের রথ কমিটির হাতে এখনও সেই অনুদানের অর্থ এসে পৌঁছায়নি বলেও জানানো হয়েছে। মঠ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই অনুদানের অর্থ হাতে পাওয়া যাবে বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস মিলেছে।
প্রতি বছরের মতো এবারও রথযাত্রায় হাজার হাজার ভক্ত, দর্শনার্থী ও পর্যটকের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়েও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে মঠ কর্তৃপক্ষ।
উদ্যোক্তাদের দাবি, ধর্মীয় আবেগ, সামাজিক সম্প্রীতি, স্বচ্ছ পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখেই এবারের রথযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। আমিষমুক্ত মেলা, সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশ এবং বিনামূল্যে স্টল বরাদ্দের মতো উদ্যোগ রথযাত্রাকে এক নতুন মাত্রা দেবে বলেই তাঁদের আশা। ঐতিহ্য ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে এবারের শিলিগুড়ির রথযাত্রা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছে আরও স্মরণীয় হয়ে উঠবে বলেও মত মঠ কর্তৃপক্ষের।

