শিলিগুড়ি, ১৪ জুলাই:
প্রায় তিন মাস আগে কাওয়াখালি এলাকা থেকে চুরি যাওয়া একটি স্কুটি উদ্ধার করতে সক্ষম হল এনজেপি থানার সাদা পোশাকের পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত, তথ্য সংগ্রহ এবং গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া স্কুটিটি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে এনজেপি থানার তদন্তকারী দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ কাওয়াখালি এলাকা থেকে একটি স্কুটি চুরি হয়ে যায়। স্কুটির মালিক ঘটনার পরই এনজেপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে থানার সাদা পোশাকের পুলিশ। প্রথম থেকেই ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করেন।
তদন্ত চলাকালীন পুলিশ একাধিক সূত্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, এনজেপি রেলওয়ে হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় চুরি যাওয়া স্কুটিটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া স্কুটিটি পরীক্ষা করে সেটিই কাওয়াখালি থেকে চুরি যাওয়া যানবাহন বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
এই ঘটনায় গণেশ ঘোষ (২০) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের বাড়ি ফুলবাড়ি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ছটপুকুরে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। তবে তদন্তের স্বার্থে সেই তথ্য এখনই প্রকাশ করতে চাইছে না পুলিশ।
পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। ধৃত যুবক কোনও সক্রিয় চোরচক্রের সদস্য কি না, কিংবা এর আগে একই ধরনের চুরির ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও উদ্ধার হওয়া স্কুটিটি কীভাবে এবং কোথায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এনজেপি থানার তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ধৃতকে আদালতে পেশ করা হবে এবং প্রয়োজনে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে, যাতে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চুরি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
শহর ও সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মোটরবাইক ও স্কুটি চুরির ঘটনা রুখতে এনজেপি থানার পক্ষ থেকে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশের বিশেষ অভিযানও অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের আশা, এই ঘটনার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে এবং চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

