আলিপুরদুয়ার, ১৪ জুলাই:
পরিবেশ সংরক্ষণ, বনাঞ্চল রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সবুজায়ন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও মহা সমারোহে পালিত হল অরণ্য সপ্তাহ। মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার জেলার রবীন্দ্র ভবন প্রাঙ্গণে অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রশাসনের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং বন দপ্তরের কর্মীরা উপস্থিত থেকে পরিবেশ রক্ষার বার্তা তুলে ধরেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক ময়ূরী বাসু, আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক পরিতোষ দাস, মাদারিহাটের বিধায়ক লক্ষণ লিম্বু সহ বন দপ্তরের আধিকারিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। প্রদীপ প্রজ্বলন ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
প্রতি বছর ১৪ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত টানা সাত দিন ধরে অরণ্য সপ্তাহ পালন করা হয়। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের মধ্যে বন ও পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে বনাঞ্চল সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তাও দেওয়া হয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অবনতি এবং দ্রুত হারে গাছ কাটার ফলে পরিবেশ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বেশি করে গাছ লাগানো এবং লাগানো গাছের পরিচর্যা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই পরিবেশ রক্ষা সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন তাঁরা।
অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে এদিন রবীন্দ্র ভবন প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপস্থিত অতিথিরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরিবেশ রক্ষার শপথ নেন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ সংক্রান্ত নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অরণ্য সপ্তাহ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে যুক্ত করে একাধিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হবে। এর মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে সামিল করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আলিপুরদুয়ারের মতো বনাঞ্চল ঘেরা জেলায় অরণ্য সপ্তাহের গুরুত্ব বিশেষভাবে রয়েছে। বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের পাশাপাশি জেলার প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমীরা। এদিনের কর্মসূচি থেকে উঠে এল একটাই বার্তা—পরিবেশ বাঁচাতে বেশি করে গাছ লাগান এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করুন।

