জলপাইগুড়ি, ২০ জুলাই:
জলপাইগুড়ি জেলার প্রাক্তন আইএনটিটিইউসি সভাপতি তপন দে-কে গ্রেপ্তার করেছে রাজগঞ্জ থানার পুলিশ। রবিবার বিকেলে তাঁকে রাজগঞ্জ থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে জলপাইগুড়ি জেলা ও দায়রা আদালতে পেশ করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, হুমকি প্রদান এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি পুরনো মামলায় তদন্তের ভিত্তিতেই এই গ্রেপ্তারি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মামলাটি বিচারাধীন থাকলেও সম্প্রতি তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তপন দে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমাকে একটি পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি আর কোনও বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
তপন দে দীর্ঘদিন ধরে জেলার শ্রমিক রাজনীতির পরিচিত মুখ। আইএনটিটিইউসি-র জেলা সভাপতি হিসেবে তিনি একসময় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সময় তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের অন্যতম সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে তাঁর গ্রেপ্তারিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই গ্রেপ্তারির সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনও সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি পুরনো ফৌজদারি মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ বলেই দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে মামলার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, তপন দে-র গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনের তরফেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তারের অভিযোগের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
তবে এই ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনে আদালতের নির্দেশ এবং তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের।

