আলিপুরদুয়ার, ২৬ জুলাই:
হাসিমারার পর এবার কালচিনি ব্লকের হ্যামিল্টনগঞ্জেও নর্দমার ওপর অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ শুরু করেছে প্রশাসন। নর্দমা দখল এবং সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ইতিমধ্যেই ১১ জনকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের উদ্যোগে হ্যামিল্টনগঞ্জের দমকল কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় একটি বিস্তারিত সমীক্ষা চালানো হয়। সেই সমীক্ষায় দেখা যায়, নর্দমা এবং সরকারি জমির উপর একাধিক অবৈধ নির্মাণ গড়ে উঠেছে। এই নির্মাণগুলির কারণে প্রাকৃতিক জলনিকাশি ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রশাসনের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই সংশ্লিষ্ট ১১ জনকে নোটিশ পাঠিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বৃষ্টির পর হ্যামিল্টনগঞ্জ-সহ বিভিন্ন এলাকায় যে জলাবদ্ধতার সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার অন্যতম প্রধান কারণ নর্দমা দখল এবং জলনিকাশি পথ সংকুচিত হয়ে যাওয়া। নর্দমার উপর অবৈধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির জল দ্রুত বের হতে পারছে না। এর ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বহু এলাকায় জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু হ্যামিল্টনগঞ্জেই নয়, আগামী দিনে কালচিনি ব্লকের অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে সমীক্ষা চালানো হবে। যেখানে যেখানে নর্দমা বা সরকারি জমি দখলের অভিযোগ মিলবে, সেখানে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ দখলমুক্ত করে জলনিকাশি ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন লতাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা অলোক মিত্র। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নর্দমা এবং সরকারি জমি দখল করে বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ হওয়ার ফলে রাস্তার প্রস্থ অনেকটাই কমে গিয়েছে। এর জেরে প্রতিদিন যান চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে চলেছে। পাশাপাশি জলনিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বর্ষাকালে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
অলোক মিত্র আরও বলেন, প্রশাসনের উচিত আইন মেনে সমস্ত অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে তিনি যাঁরা সরকারি জমি বা নর্দমার উপর অবৈধ নির্মাণ করেছেন, তাঁদের স্বেচ্ছায় সেই নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের প্রয়োজন কমবে এবং এলাকার পরিবেশ ও জনস্বার্থও রক্ষা পাবে।
বর্তমানে নোটিশপ্রাপ্তদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং প্রশাসনের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে হ্যামিল্টনগঞ্জের বাসিন্দাদের। পাশাপাশি ব্লকের অন্যান্য এলাকায়ও একই ধরনের সমীক্ষা শুরু হলে আরও অবৈধ দখলের ঘটনা সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

