দার্জিলিং, ২ সেপ্টেম্বর
দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী টয় ট্রেনকে ঘিরে বুধবার আচমকাই ঘটে গেল বড়সড় দুর্ঘটনা। হঠাৎ ভেঙে পড়ল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (DHR) টয় ট্রেনের লোকো শেডের কাঠের ছাদ। আর সেই সময়ই শেডের ভিতরে কাজ করছিলেন বেশ কয়েকজন কর্মী। ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭ জন লোকো শেড কর্মী।
প্রত্যক্ষভাবে কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আচমকা কাঠের ছাদ ভেঙে পড়ায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা লোকো শেড এলাকায়। ছাদের নিচে আটকে পড়েন বা আহত হন কয়েকজন কর্মী। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন অন্যান্য রেলকর্মীরা।
দুর্ঘটনার পর আহত ৭ কর্মীকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত তুলনামূলকভাবে কম। তবে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সকলকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এত পুরনো কাঠের ছাদ কি আগে থেকেই বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল? নাকি অন্য কোনও কারণেই আচমকা ভেঙে পড়ল লোকো শেডের একটি বড় অংশ? দুর্ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা।
ঘটনার খবর পেয়ে রেলকর্মীদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। লোকো শেডের কাঠামোর বর্তমান অবস্থা এবং ছাদ ভেঙে পড়ার সঠিক কারণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
দার্জিলিংয়ের হেরিটেজ টয় ট্রেন শুধু পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ নয়, পর্যটকদের কাছেও এটি অন্যতম আকর্ষণ। UNESCO-র হেরিটেজ মর্যাদা পাওয়া এই ঐতিহ্যবাহী রেল পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত লোকো শেডে এমন দুর্ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্মীদের নিরাপত্তা। কর্মীরা যখন নিজেদের দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখনই মাথার উপর ভেঙে পড়ল কাঠের ছাদ। আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আটকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

