মাথাভাঙা, ৭ জুন:
বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হয়ে যাওয়া মোট ২৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে রবিবার প্রকৃত মালিকদের হাতে তুলে দিল মাথাভাঙা থানার পুলিশ। পুলিশের এই উদ্যোগে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে মোবাইলের মালিকদের মধ্যে। দীর্ঘদিন পর নিজেদের হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে অনেকেই পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাসে মাথাভাঙা থানায় একাধিক মোবাইল হারানো ও চুরির অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আধুনিক প্রযুক্তি, সাইবার ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক সংস্থার সহযোগিতায় হারিয়ে যাওয়া মোবাইলগুলির অবস্থান চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়।
তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন জেলা ও এলাকার সূত্র ধরে একের পর এক মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলির আইএমইআই নম্বর, ক্রয় সংক্রান্ত নথি এবং অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করা হয়। সমস্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল ফোনগুলি তাদের মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নিজের হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কয়েকজন জানান, মোবাইল ফোনে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ নথি, ছবি, ব্যক্তিগত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষিত ছিল। তাই মোবাইল ফিরে পাওয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত স্বস্তির বিষয়। পুলিশের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন তাঁরা।
এদিন আয়োজিত মোবাইল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাথাভাঙা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সমরেন হালদার এবং শুভজিত ঝা। তাঁরা জানান, সাধারণ মানুষের হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হয়ে যাওয়া মোবাইল উদ্ধারে পুলিশ প্রশাসন নিয়মিতভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ আধিকারিকরা আরও বলেন, মোবাইল হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে দ্রুত থানায় অভিযোগ জানানো এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করলে তদন্তে সুবিধা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অনেক ক্ষেত্রেই হারানো মোবাইল উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পাশাপাশি কোনও ঘটনা ঘটলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
মাথাভাঙা থানার এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হারানো সামগ্রী উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার এই পদক্ষেপকে মানবিক ও জনমুখী পুলিশি কাজের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

