আলিপুরদুয়ার, ৮ জুন:
ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে সোমবার থেকে শুরু হল আইসিএসই জোনাল ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। সি এই এস ই (কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এক্সামিনেশন) বোর্ডের উদ্যোগে আলিপুরদুয়ার জেলার হ্যামিল্টনগঞ্জ বুন ইংলিশ স্কুলে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে উৎসাহের আবহ তৈরি হয়েছে অংশগ্রহণকারী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
আয়োজক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রতিযোগিতায় আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন আইসিএসই ও আইএসসি অনুমোদিত স্কুলের মোট ১২৯ জন ছাত্রছাত্রী অংশগ্রহণ করেছে। বিভিন্ন বয়সভিত্তিক বিভাগে প্রতিযোগীরা নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ক্রীড়া সংগঠক এবং বিভিন্ন স্কুলের প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনই নয়, ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে পবন সিং ঝা জানান, এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য হল পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার বিকাশ ঘটানো এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলা। তিনি বলেন, “খেলাধুলা শুধু শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে না, এটি আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতাও তৈরি করে। বিভিন্ন জেলার ছাত্রছাত্রীরা এখানে একত্রিত হওয়ার ফলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়েরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, জোনাল স্তরে যাঁরা সাফল্য অর্জন করবেন, তাঁরা পরবর্তী পর্যায়ে রিজিওনাল স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। সেখানে সফল হলে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় নিজেদের জেলার পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ মিলবে। ফলে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের কাছে এই প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিযোগিতা চলাকালীন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখার জন্য বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক ও ক্রীড়াপ্রেমীরাও। আয়োজকদের আশা, ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে এবং তারা জাতীয় স্তরেও নিজেদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখবে।
শিক্ষা ও ক্রীড়ার সমন্বয়ে আয়োজিত এই জোনাল ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা আগামী দিনে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্রীড়া সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

