মাথাভাঙ্গা , ৯ জুন
কাটমানির অভিযোগে অভিযুক্ত মাথাভাঙ্গা শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কাকলি ঘোষ ফের আরও ১ লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দিলেন। শুক্রবার রাতে ১ লক্ষ টাকা ফেরানোর পর বাকি টাকা ধাপে ধাপে ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সোমবার রাতেও স্থানীয় দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে সকলের উপস্থিতিতে আরও ১ লক্ষ টাকা ফেরত দেন। ফলে এখনও পর্যন্ত মোট ২ লক্ষ টাকা ফেরত দিলেন তিনি।
অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এলাকায় জমি বিক্রি, আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের নামে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। পাশাপাশি ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়েরও অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের তির ছিল স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর কাকলি ঘোষ এবং মাথাভাঙ্গা শহর ব্লক তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি নয়নজ্যোতি সাহার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অন্যান্য তৃণমূল নেতাদের মতোই এলাকা ছাড়া হয়েছিল কাকলি ঘোষ ও নয়নজ্যোতি সাহা। ফল প্রকাশের প্রায় এক মাস পরে কাকলি ঘোষ এলাকায় ফিরে এলেও এখনও বাড়িছাড়া রয়েছেন নয়নজ্যোতি সাহা। এরপরই চাপের মুখে পড়ে কাকলি ঘোষ কাটমানির টাকা ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেন।
শুক্রবার রাতে দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে ১ লক্ষ টাকা ফেরানোর পর সোমবার রাতেও আরও ১ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। যদিও স্থানীয়দের দাবি, এখনও কয়েক লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া বাকি রয়েছে।
টাকা ফেরানোর পর কাকলি ঘোষ বলেন, “২০২২ সালে আমাকে পার্টিতে নামানো হয়। তারপর আমার উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে। সবকিছুতে সহমত না থাকলেও অনেক কিছু মেনে নিতে হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মনে করি, যারা আমার হাতে টাকা দিয়েছে, তাদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।”

